মুন্সীগঞ্জে আবারো পুলিশ পরিচয়ে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এবার এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করে ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দুই লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার ভিটিহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ের শিকার প্রবীর পাল জানান, তিনি ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। দোকানদারি শেষ করে প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও তিনি মুন্সীগঞ্জ শহরের বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় একটি ব্যাগে গ্রাহকদের ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও দুই লাখ টাকা ছিল। ভিটিহোগলা টানা সেতু এলাকায় পৌঁছলে সিএনজিতে থাকা পাঁচজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার পথ রোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা হাতকড়া পরিয়ে ও মাথায় আঘাত করে ব্যাগ ও মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। ওই পাঁচজনের মধ্যে একজনের গায়ে পুলিশের পোশাক, একজনের গায়ে ডিবির পোশাক, তিনজনের গায়ে সাদা পোশাক ছিল। গ্রাহকদের স্বর্ণ ফিরিয়ে দিতে না পারলে মরণ ছাড়া উপায় নেই বলে জানান প্রবীর পাল।
প্রবীর পালের স্ত্রী সম্পা রানী পাল বলেন, ‘গ্রাহকদের এতগুলো স্বর্ণ আমার স্বামীর কাছ থেকে পুলিশ পরিচয়ে টাকা-পয়সাসহ লুট করে নিয়ে গেল। আমরা এগুলো গ্রাহকদের কোথা থেকে এনে দেবো। স্বর্ণ না পেলে আমাদের বাড়ি ছাড়তে হবে, নয়তো পথে বসতে হবে। আমরা চাই, পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করুক।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোজাম্মেল হক বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সাথেও কথা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য তদন্ত চলছে। স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এভাবে কয়েক দফা পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ প্রশাসন তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি। বারবার কেন পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাই হচ্ছে, এরা কারা যে পুলিশের পোশাক ও হ্যান্ডকাফসহ ছিনতাই করেই যাচ্ছে- এমন প্রশ্ন সবার। পুলিশ প্রশাসনের খুব দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পৌরসভার সচেতন মানুষ।