টানটান উত্তেজনা ও ইভিএম নিয়ে নানা সন্দেহ সংশয়ের মধ্যে সাড়ে ১১ বছর পর অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। প্রায় ৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র হলেন জাহেদী পরিবারের সদস্য কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল। তিনি নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৪৭ ভোট কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৭৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫৩৯ ভোট। গতকাল রোববার সকাল ৮টায় ঝিনাইদহ পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতির ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুস ছালেক জানান, ঝিনাইদহ পৌরসভায় মোট ভোটার ৮২ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪০ হাজার ৪৪৬ জন ও নারী ভোটার ৪২ হাজার ২৪৯ জন। ইভিএমে ভোট গ্রহণের জন্য ৪৭টি কেন্দ্র ও ২৬৫টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ প্রার্থী ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পদে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ১৮ জন নির্বাহী ও তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়াও ৩৫৫ জন পুলিশ ও ৮০১ জন আনসার নিয়োজিত ছিলেন।
কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা : ঝিনাইদহ পৌরসভার কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে কেবল সাবেক দুই কাউন্সিলর তাদের জয়ের ধারা ধরে রাখতে পেরেছেন। তারা হলেন- ৫নং ওয়ার্ডে টানা ছয়বার জয়ী হয়ে রেকর্ড সৃষ্টিকারী সাবেক ফুটবলার সাইফুল ইসলাম মধু ও ৬ নং ওয়ার্ডে মহিউদ্দীন মহি। এ ছাড়া বাকি ৭টি ওয়ার্ডে নতুন মুখ বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ১নং ওয়ার্ডে টিপু সুলতান, ২নং ওয়ার্ডে মো: আবু বক্কার, ৩নং ওয়ার্ডে আলাউদ্দীন জোয়ারদার লাড্ডু, ৪নং ওয়ার্ডে শামসিল আরেফিন কায়সার, ৫নং ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম মধু, ৬নং ওয়ার্ডে লিয়াকত হোসেন, ৭নং ওয়ার্ডে মহিউদ্দীন, ৮নং ওয়ার্ডে সাদেক আলী ও ৯নং ওয়ার্ডে রেজাউল করিম রেজা। এ ছাড়া মহিলা কাউন্সিলর পদে সাবেক কাউন্সিলর ফারহানা রেজা আনজু, বুলবুলি বেগম ও সুফিয়া বেগম নির্বাচিত হন।



