কুমিল্লার লাকসামে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে আবু সায়েম (১৮) নামে একজনকে হত্যা এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাদ (১৩) ও পলাশ (১৬) নামে আরো দু’জন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে উত্তর দিকে চার বন্ধুসহ হেঁটে যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম শান্ত (২৮)। তারা লেভেল ক্রসিংয়ে যাওয়ার আগেই জংশন থেকে হুইসেল বাজিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় মহানগর গোধূলি। একই সময়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করছিল। এ সময় অন্যরা লাইন থেকে নেমে যায়। কিন্তু মোবাইল টিপতে থাকা শান্ত পাহাড়িকা ট্রেনের নিচে পড়ে চাকার সাথে আটকে যায়। পরে জংশন স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে ট্রেন থামলে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।

দুই সন্তানের জনক রফিকুল ইসলাম শান্ত রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি লালমাই উপজেলার পেরুল পূর্বপাড়ার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

এদিকে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে একজনকে হত্যা বিষয়ে ওই ঘটনায় আহত সাদ জানান, শনিবার কিশোরগঞ্জের কাটাখালি থেকে তারা তিনজন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে করে চট্টগ্রাম যান। রোববার চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে তিনজন একই ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। এ সময় আরো দু’জন তাদের সাথে ছাদে ওঠে। ট্রেন চলতে শুরু করলে ওই দু’জন তাদের কাছে টাকা দাবি করেন। এ সময় তাদের কাছে কিছু নেই বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। লালমাই এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা একে একে তিনজনকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেন। এতে আবু সায়েমের মৃত্যু হয় এবং সাদ ও পলাশের হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আবু সায়েম কিশোরগঞ্জের ধসুদল কাটাখালি এলাকার স্বপ্ন মিয়ার ছেলে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার ও উপ-পরিদর্শক আবুল হোসাইন জানান, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ও অপর একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।