নাটোর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুকের কক্ষে ১৯ দিন ধরে তালা ঝুলছে। দিনের পর দিন নানা কাজে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতা ও ঠিকাদারদের। এতে জেলা পরিষদের চলমান প্রায় সব উন্নয়নমূলক কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকৌশলী ওমর ফারুকের অভিযোগ, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) সাইদুল ইসলামকে চাহিদা মতো উৎকোচ দিতে না পাড়ায় তিনিই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, প্রকৌশলী ওমর ফারুক গত ২৮ আগস্ট অফিসে এসে তার অফিস কক্ষে তালা ঝুলতে দেখেন। খবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম তার কক্ষে তালা লাগিয়েছেন। ১৯ দিন ধরে নিয়মিত পরিষদে এলেও ফাইলপত্র না পাওয়ায় তিনি তার দায়িত্বে থাকা পরিষদের চলমান উন্নয়নমূলক কাজগুলোও তদারকি করতে পারছেন না। বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ওমর ফারুক একাই কর্মরত থাকায় পরিষদের সহকারী প্রকৌশলীদের সব কর্মকাণ্ড এখন বন্ধ রয়েছে।
ঠিকাদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ওমর ফারুক কোনো অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতনদের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে; কিন্তু তার সরকারি দফতরে ১৯ দিন ধরে তালা মেরে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকৌশলী ওমর ফারুক সুযোগ পেলে অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে ফেলতে পারেন, তাই জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তিনি তালা ঝুলাননি।
নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান বলছেন, তিনি তালা লাগানোর ব্যাপারে কিছুই জানেন না। কোনো সরকারি দফতরে তালা লাগিয়ে দেয়ার পরামর্র্শ বা হুকুম কোনোটাই তিনি দিতে পারেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।