জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিনে ফরিদপুরে উৎসবমূখর পরিবেশে মনোনয়ন জমা দিয়েছে প্রার্থীরা। এতে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মনানয়নপত্র জমা দিয়েছেন সব মিলিয়ে ৬০ জন প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ফারুক হোসেন দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইশতিয়াক আরিফসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং উপজেলা ও ইউপির জনপ্রতিনিধিরা।

এর আগে বুধবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় অর্থ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন। এ সময় ভাঙা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, সদরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান ও চরভদ্রাসনের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: কাউসারসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে চেয়ারম্যান পদে চারজন, নয়টি সদস্য পদের বিপরীতে ৪৪ জন ও তিনজন সংরক্ষিক মহিলা সদস্যের বিপরীতে ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে অন্য দু’জন হলেন- অধ্যাপক এম এ আজিজ ও মো: নূর ইসলাম সিকদার।

এদিকে জেলা পরিষদের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা ও উত্তেজনা চলছে।

একাধিক প্রার্থী জানান, গত দু’বারে ফরিদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীদের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পরেও শেষে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। তবে এবার একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলে তারা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী শাহাদাত হোসেন বলেন, বিগত দিনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফারুক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে দলীয় কারো নির্বাচন করা যাবে না। আমি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী। দলের পদে থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানান তিনি।

দেশের তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ৬১টি জেলা পরিষদে ১৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।