ফরিদপুরে একই দিনে ছেলের গলাকাটা লাশ শনাক্তের পর সন্তান প্রসবের সময় অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কোশাগোপালপুর গ্রামের ট্রাক হেলপার আইয়ুব আলীর পরিবারে এমন ঘটনায় শোকের মাতম চলছে।

জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মেম্বার গট্টিতে রাস্তার পাশের একটি খাদে পড়ে থাকা অবস্থায় আইয়ুব আলীর মেঝো ছেলে রাজিবের (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

আইয়ুব আলী জানান, গত শুক্রবার সিএনজি গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফিরেনি রাজিব। এ ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করার পর বিকেলে তার লাশ উদ্ধার হয়।

পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে তার সিএনজি গাড়ি ছিনতাই করেছে।

এদিকে ছেলের লাশ উদ্ধারের পর থানায় মামলা করে রাতে বাড়িতে ফিরে ছোট মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা বিউটি আক্তারের মৃত্যুর খবর পান তিনি। বিউটির স্বামী ট্রাকচালক মফিজুল ইসলাম শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে বিএসএমএমসি হাসপাতালের সামনে থাকেন। লিজা নামে ১৫ বছরের একটি মেয়ে আছে তাদের।

রোববার ওই বিএসএমএমসি হাসপাতালে যমজ ছেলেসন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান বিউটি। তার সন্তানেরা বর্তমানে শিশু হাসপাতালে রয়েছে। সোমবার মেয়ে ও ছেলের দাফন করা হয়।

আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমি বাসের হেলপারি করি। আমার ছেলে রাজিব পাশের কোমরপুর এলাকায় একটি সিএনজি ভাড়ায় চালাত। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে সিএনজি গাড়ি নিয়ে বের হয় রাজিব। এরপর আর বাড়িতে ফিরে না আসায় রোববার সকালে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করি। ওই দিন সন্ধ্যায় সালথার মেম্বার গট্টি এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সালথা থানায় এসে ছেলের লাশ শনাক্ত করে রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করি। এরপর সন্ধ্যায় মেয়েরও মৃত্যুর খবর পাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার পাঁচ সন্তানের মধ্যে দু’জন চলে গেল।’

সালথা থানার এসআই আওলাদ হোসেন বলেন, ’প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতেই কোনো একসময় চালক রাজিবকে গলা কেটে হত্যা করে তার লাশ সড়কের পাশে রেখে সিএনজি গাড়িটি নিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সালথা থানায় অজ্ঞাত তিন-চারজনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।’