পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনে এসে হামলার শিকার হয়েছেন মনিরুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি। এ সময় স্ত্রী তার সাবেক প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মনির। অজ্ঞাত চার-পাঁচজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন, এ সময় তার স্ত্রী হামলাকারীদের সাথে পালিয়ে যায়।
গত মঙ্গলবার রাতে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট ফ্রাই মার্কেট সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মনিরকে হেফাজতে নিলেও উদ্ধার করতে পারেনি তার স্ত্রী নুরে জান্নাতকে।
মারধরের স্বীকার পর্যটক মনিরুল ইসলাম বরগুনা জেলার কেজি স্কুল সংলগ্ন আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছিলেন। গত শুক্রবার ১৬ সেপ্টম্বর তাদের বিয়ে হয়।
মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা সৈকতে ঘোরাঘুরির পরে সন্ধ্যায় রুমে আসি; কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে বারবার অনুরোধ করলে আমরা আবার সৈকতে যাই। সৈকতের জিরো পয়েন্টে আসার পরে সে আমাকে বারবার অনুরোধ করে হাঁটাহাঁটির জন্য। আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফ্রাই মার্কেট পেরিয়ে অন্ধকারে জায়গায় গেলে হঠাৎ আমার ওপরে চার-পাঁচজন লোক আক্রমণ করে। কিন্তু আমি বাঁচার চেষ্টা করি এবং স্ত্রীকে আঁকড়ে ধরি তবে আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে এবং কোনো প্রকার আর্তচিৎকার না দিয়ে যারা আমাকে মেরেছে তাদের সাথে পালিয়ে যায়।
নুরে জান্নাতের বাবা হারুন অর-রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, আমরা ঘটনা শোনার সাথে সাথে চলে এসেছি। কিন্তু আমার মেয়ে এখন কোথায় আছে তা এখনো জানতে পারিনি। তবে জামাইকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি। পারিবারিকভাবে বিষয়টি আমরা দেখব।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মারধরের স্বীকার পর্যটককে উদ্ধার করি, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে আমাদের কয়েকটি টিম আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে; কিন্তু তার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। মনিরকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।