গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর পর জানা গেল ল্যাব প্রধান ভুয়া সনদে হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চাকরি করছেন। ইতোমধ্যে রোগ নির্ণয়ে তার একাধিক ভুল রিপোর্টে চিকিৎসকরা আপত্তি জানালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
টঙ্গীর ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুল অপারেশনে লাভলী খাতুন (২৩) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালটি ঘেরাও দিয়ে বিক্ষোভ করে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত বুধবার দুপুরে প্রসব বেদনা শুরু হলে লাভলীকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ না করেই অস্ত্রোপচার শুরু করলে লাভলী চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তার স্বজনরা এগিয়ে গেলে তাদেরকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকতে দেয়া হয়নি। অপারেশন সম্পন্ন করতে লাভলীকে দুইবার অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করা হয়। অতিরিক্ত অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের ফলে দীর্ঘক্ষণেও তার জ্ঞান ফেরেনি। একপর্যায়ে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় হাসপাতালটির নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে লাভলীকে ঢাকার ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসূতি লাভলীকে মুর্মূষু অবস্থায় ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে এনে ফের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হলে বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ দিকে প্রসূতির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় ১০ মিনিট অবরোধ করে। এ সময় মহাসড়কে চলাচলরত গাড়ি ও হাসপাতাল ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় তারা। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ দিকে এ ঘটনার পর হাসপাতালটির ল্যাব ইনচার্জ তৌহিদুর রহমানের ভুয়া সনদে চাকরি করার বিষয়টি ফাঁস হয়। তার চাকরির আবেদনপত্রেও দেখা যায়, তিনি ল্যাব-ইনচার্জ (প্যাথলজি) পদে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর চাকরির আবেদন করেন। এ দরখাস্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘ডিএমটি (প্যাথ)’ উল্লেখ করেন। এ দিকে মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠানে ডিল্পোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন জানতে চাইলে তৌহিদুর রহমান বলেন, আমি পড়েছি সত্য, কিন্তু পাস করিনি, টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অধিক অভিজ্ঞতার কারণে আরো বেশি বেতনে তাকে বর্তমানে এ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা: হাসমত আলী বলেন, ওই প্রসূতির যিনি অপারেশন করেছেন তিনি একজন ভালো চিকিৎসক। একজন চিকিৎসক কোনো রোগীকেই মারতে চান না। সিজারের পর ওই রোগীর খিঁচুনি শুরু হলে আমরা তাকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে পাঠাই। আমাদের চিকিৎসক সালমা নাহার অপারেশনে কোনো ভুল করেননি। ল্যাব প্রধান তৌহিদুর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে ল্যাব কো-অর্ডিনেটর হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি কোনো পরীক্ষার রিপোর্ট করেন না।