রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কমবেশি এ রোগটির প্রাদূর্ভাব দেখা দিলেও গোয়ালন্দে এ বছর আক্রান্তের বেড়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখ উঠা বা কনজাংটিভাটিস বা পিঙ্কআই রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে।

উপজেলার গোয়ালন্দ পৌরসভা, ছোটভাকলা, উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রামসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগে বয়স্কদের চেয়ে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে গোয়ালন্দ পৌরসভার ওলিমদ্দিন পাড়ার নাজমুল সরদারের ছেলে আব্দুল্লাহ, তার মা আকলিমাসহ ওই বাড়ির প্রায় সবাই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একই অবস্থা পাশের বাড়ির জুঁই আক্তার, খাদিজা খাতুনসহ অনেক কিশোর কিশোরী ও বয়স্কদের। দেবগ্রাম, ছোটভাকলা, উজানচর,দৌলতদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

সেবা সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে প্রকৃতির। রোগীর সংস্পর্শে এলে বা রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র, কাপড়, টাওয়াল, টিস্যু, ইত্যাদি অন্যরা ব্যবহার করলে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের কাছাকাছি এসে আক্রান্ত রোগীর চোখের দিকে সুস্থ ব্যক্তি তাকালেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এ রোগের লক্ষণ হলো প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে দু’চোখই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শুরুতে চোখে ময়লা পড়ার অনুভূতিতে চোখে হাল্কা চুলকানি শুরু হয়ে চোখ গোলাপি বা লাল হতে পারে। পরে চোখ ফুলে গিয়ে প্রচণ্ড রকম অস্বস্তি লাগতে পারে। চোখ ব্যাথা হয়ে ঝাপসা দেখা, এমনকি চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরাসহ ময়লা বের হতে পারে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, চোখ উঠা রোগে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যায়।

পরমর্শ দিয়ে বলেন, অহেতুক আক্রান্ত চোখ ঘষামাজা করা যাবে না। চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে। চোখের কাজ যেমন পড়ালেখা, টিভি, মোবাইল ব্যবহার সীমিত করতে হবে। নিজের ও অন্যের চোখ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে চোখে কালো সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি জানান, বেশি ব্যথা হলে মোটা কাপড় দিয়ে আক্রান্ত চোখে কুসুম গরম ভাপ দেয়া যেতে পারে। সাথে প্যারাসিটামল বা নাপা জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে এবং চুলকালে অ্যান্টি হিস্টামিন বা এলাট্টল দিনে একবার করে খাওয়া যেতে পারে । প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওই জাতীয় চোখের ড্রপ এক ফোটা করে দিনে তিন বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, কোনো কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ অতিরিক্ত লাল হয়ে আঠালো ময়লা বের হলে, ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলতে না পারলে, প্রচণ্ড মাথা ব্যাথার সাথে জ্বর হলে, চোখে ঝাপসা দেখলে এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীর কোনো উন্নতি না হলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তার পরামর্শ, সর্বোপরি চোখের ব্যাপারে কোনো অবহেলা না করে এ রোগ দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। রোগটি ভাইরাসজনিত হওয়ায় কেউ আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে লোক সমাগমস্থলে বেশি গিয়ে সতর্কতার সাথে চোখের যত্ন নিতে হবে।