সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের গৌরবময় অর্জনে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহম্মদ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সজিব খান, এডিএলজি সাতক্ষীরা মাশরুবা ফেরদৌস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সাবিনা খাতুনের মা মমতাজ বেগম প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান আশু, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন প্রিন্স, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ফারহা দিবা খান সাথী প্রমুখ।

এ সময় সাবিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল- দক্ষিণ এশিয়ার ফাইনালের ট্রফিটা দেশের মানুষের জন্য এনে দিব। আমার সেই স্বপ্ন পূরুণ হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সময় অন্য দলগুলো আমাদেরকে আন্ডারডগ ভেবেছিল। কিন্তু আমি সব দলগুলোকে সম্মান দেখিয়ে আমার সতীর্থদেরকে উজ্জ্বিবিত করেছি। তাদরেকে সাহস দিয়েছি। কোচ আমাদেরকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পেশাদারিত্বে পিছিয়ে থাকলেও তারুণ্য এবং মানসিক শক্তি নির্ভর দল নিয়ে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে নিয়েছে। অনেক দলই শিরোপা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হলেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনোবলের কাছে পরাজিত হয়েছে।

সাবিনা আরো বলেন, সাতক্ষীরাবাসী এভাবে আমাকে বরণ করে নিবে আমি ভাবতেও পারিনি। এটা আনেক বড় একটা সম্মান। এজন্য আমি সাতক্ষীরাবাসী ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবসময় চেষ্টা করব মানুষের এই ভালোবাসা ও হাসি মুখটা দেখার জন্য এবং নিজের ক্যারিয়ার টাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে।

সাবিনা তার বক্তব্যে জেলার উদীয়মান ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য একটি মাঠ এবং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নের জন্য ভালো প্রশিক্ষকের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, সাবিনা শুধু সাতক্ষীরার নয় সারা বাংলাদেশের সম্পদ। আমরা সাবিনার পাশে আছি এবং যখন যা প্রয়োজন আমরা তাকে সহযোগিতা করব। আগামীতে বিভাগীয় পর্যায়ে সাবিনা ও মাসুরাকে সংবর্ধনা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

প্রধান অতিথি এমপি রবি বলেন, সাবিনা সম্মিলতভাবে সাফ ফুটবলে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করে বাঙালি জাতীকে গর্বিত করেছে। সাবিনা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য আমরা সাতক্ষীরাবসী গর্বিত। এখন সাতক্ষীরাকে নিয়ে আমরা অহঙ্কার করি। সাবিনার খারপ অবস্থার উত্তরণে যা যা করা দরকার আমরা তা করব। তার পরিবারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

একটা মানুষকে তার জীবদ্দশায় সম্মানিত করা ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সহযোগিতা করব।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাবিনাকে একটি ক্রেস্ট ও নগদ এক লাখ টাকা প্রদাণ করা হয়। একইসাথে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি সাবিনাকে ৩ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।

ছুটি না পাওয়ার কারণে দলের অন্যতম সদস্য সাতক্ষীরার অপর খেলোয়াড় মাসুরা সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারিনি। পরে সাবিনা ও মাসুরাকে নিয়ে গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা জানান জেলা প্রশাসক।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবিনার মা মমতাজ বেগম ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় কোচ প্রয়াত আকবর আলীর স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সাবিনা খাতুনকে সংবর্ধনা প্রদাণ করা হয়।