ভাদ্র ও আশ্বিন মিলে শরৎকাল, ষড়ঋতুর তৃতীয় ঋতু। প্রকৃতি এই সময় বৈচিত্রপূর্ণ রূপ ধারণ করে। নীল আকাশে ধবধবে পেঁজো তুলোর মতো মেঘ, আর মৃদু বাতাস। রোদে ঝলমল করছে চারিদিক। নীল আকাশ স্বচ্ছ সাদা মেঘ। আর সাদা মেঘের ভেলায় ভাসছে কাশফুল। শরতের দিনে কখনো কাঠফাঁটা রোদ, আবার পরক্ষণেই ঝুম বৃষ্টি। এ বছর ভাদ্র মাসে শরতের এই চিরচেনা রূপ তেমন একটা দেখা মেলেনি। তবে আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পেরোতেই প্রকৃতি সাজিয়ে নিয়েছে নিজেকে। নদীর বাঁকে বাঁকে ফুটেছে ধবধবে সাদা কাশফুল।
দৃষ্টিনন্দন এ কাশফুলের রাজ্য এখন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁওয়ে মধ্যবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীর চরে। প্রায় দুই শ’ একর চর জুড়ে দেখা মেলে এমন কাশবনের। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছুটে যান দর্শনার্থীরা।
মেঘনা নদীর ধার ধরে ভেতরের দিকে যতই যাবেন, ততই মুগ্ধ হবেন। দু’পাশে কাশফুলগুলো মাথা নুয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। বালুর মধ্যে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুল দেখে মনে হবে, প্রকৃতি আপনার মনের প্রশান্তির জন্য এই রূপে সেজেছে। শেষ প্রান্তের দু’দিকে সাজানো কাশফুল দেখে মনে হবে, যেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কাশফুলের রাজ্যে। যত দূর চোখ যায়, তত দূর কাশের শুভ্রতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা নদীর ধারে ভাটিবন্দরের এ কাশফুলের বনে মানুষের ভিড়। কাশবনে এ সৌন্দর্য দেখতে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলার ভ্রমণপ্রেমীরাও ঘুরতে আসেন। এই বছর কাশবনের পাশেই একটি ক্যাফে হয়েছে। এর দোতলায় উঠে কাশবন দেখছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। অনেকে দলবেধে নৌকা বা ট্রলার নিয়েও বেড়াতে যান এই কাশফুলের রাজ্যে। নদীর পাশে এবং কাশবনের ভেতরে গিয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। কেউ সেলফি তুলছেন আবার কেউবা ভিডিও করছেন। আর একটু দূরেই মেঘনা নদীর ঢেউয়ের গর্জন। এক কোণে দাঁড়ালেই মেঘনা নদীর বিরামহীন সৌন্দর্য। সূর্যাস্তের সময় নদীতে গোধূলির লাল, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার মতো। যে কেউই এর অপার সৌর্ন্দযের নীরব সাক্ষী হতে চাইবে।
পুরান ঢাকা থেকে এসেছেন সাব্বির আহমেদ ও সুমনা। তারা তাৎক্ষণিক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘কাশফুলের কাছে এসে খুবই আনন্দ পাচ্ছি। মনকে পরিষ্কারের জন্য এখানে আসি। কাশফুলের সান্নিধ্য পাওয়াটা একটু বাড়তি বিনোদন। অবসর সময়টা কাটানোর ভিন্ন একটা স্থান কাশফুলে জেগে উঠা এ প্রকৃতি।’
নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ, সিমু , বাবু ও হৃদি জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু মেলে আসেন এখানে। মেঘনা নদীর চরের কাশবন অনেক সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। সব মিলিয়ে চমৎকার দৃশ্য।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী জানান, পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর মেঘনা নদীর পাড় একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। আমরা চাই এ অঞ্চলের ব্যাপারে দেশ-বিদেশের পর্যটনপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ুক। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।



