ময়মনসিংহের ভালুকায় মুজিববর্ষে গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার উপজেলার ১১ ইউনিয়নে তিন ধাপে গড়ে তোলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২৪টি ঘরের মধ্যে অনেক ঘরই ফাঁকা পড়ে আছে। কোনো কোনো ঘরের মেঝের প্লাস্টার উঠে গেছে, আবার বেশ কিছু ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় মহিলাদের গোসল করতে সমস্যা হচ্ছে। কোনো জিনিসপত্র বাইরে রাখলে তা চুরি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ঘরগুলোর সামনে কর্দমাক্ত হয়ে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। একটি ভেনুতে বাবা ও দুই ছেলের নামে ঘর বরাদ্দ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের বাগেরপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, ৩০টি ঘরে অবস্থান করছেন ১২টি পরিবার। অন্য ১৮টি পরিবার প্রথম থেকেই অনুপস্থিত রয়েছে। এক ঘরের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন প্রামাণিক জানান, তিনি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগি ইউনিয়নের মামুরসই গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। পাশে মোহনা গ্রামে তিনি বিয়ে করেছেন। স্ত্রী বানু খাতুনের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। তার ঘরের মেঝের প্লাস্টার উঠে গেছে, এমনকি বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় ভেঙে পড়ার ভয়ে আতঙ্কে আছেন। তেমনি পাশের সিরাজ মিয়ার ঘরেরও একই অবস্থা। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। তারা কোনো সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পাশের প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, তার ঘরের মেঝের প্লাস্টার উঠে গেছে, চটের ছালা বিছিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। অপর বাসিন্দা হালিমা খাতুন জানান, ঘর নির্মাণের সময় তিনি মাসে সাত হাজার টাকা চুক্তিতে এক বছর লেবারদের রান্না করে দিয়েছেন। কিন্তু ৮৪ হাজার টাকা তাকে দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১৭ হাজার টাকা পেয়েছেন। পাশের ঘরের বাসিন্দা ইয়াসমিন সরকারি সেলাই মেশিন পেলেও তা বিক্রি করে দিয়েছে।
উপজেলার কাচিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান লিটন জানান, একই পরিবারের বাবা ও দুই ছেলের নামে ঘর বরাদ্দের বিষয়টি তার জানা নেই। ইউনিয়নের নায়েব বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা তৈরি করেছেন। তিনি হয়তো ওই ভুলটি করে থাকতে পারেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে সুবিধাভোগীদের অনুপস্থিতিসহ নানা ধরেনের ত্রুটি বিচ্যুতির খবর আমিও শুনেছি। প্রকল্পটি আমাদের সাথে সমন্বয় না করেই করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সরাসরি ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মাধ্যমে সার্বিক কাজ করেছে। ফলে দায়ভারও তাদের।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আবেদুর রহমান জানান, যেসব ঘরে উপকারভোগীরা থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন লোক দেয়া হবে।