মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের রাইস মিলের মেকানিক্স মোসলেম উদ্দিনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও এখনো খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ মোসলেমের।
জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় মোসলেম পারিল মাজার পাড়া গ্রামের মনির হোসেনের বাড়ি থেকে অপহৃত হয়। মোসলেমের বাড়ি গাইবান্ধা সদর থানার ফকিরের বাজার কচুর খামার গ্রামে। তিনি একই এলাকার মরহুম আকবর আলীর ছেলে।
মোসলেম উদ্দিনের শ্যালক মোহাম্মদ রাজু মিয়া জানান, তার বোনের জামাইয়ের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তিনি গৃহকর্তা মনির হোসেনের স্ত্রী লাভলী আক্তারের কাছ থেকে জানতে পারেন স্থানীয় কয়েকজন মোসলেমকে ওই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি ওই পরিবারটি। তবে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছেন বলে জানান লাভলী আক্তার।
রাজু মিয়া আরো বলেন, লাভলী আক্তারের মাধ্যমে ওই এলাকার চেয়ারম্যানের সাথে তার কথা হয়েছে। চেয়ারম্যান তার বোনের জামাইকে নারীঘটিত অপবাদ দিয়ে বাকাঁ পথে না চলারও হুমকি দেন।
লাভলী আক্তার জানান, আমাদের রাইস মিলের মেকানিক্স মোসলেমকে শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি, উত্তর বাড়ির মামুন ও স্থানীয় হাসান আমার বাড়ি থেকে চেয়ারম্যানের কথা বলে পাঁচ মিনিটের জন্য মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তার কোনো হদিস মিলছে না। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মাজেদ খানের কাছে গেলে তিনি থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবগত করতে দেননি। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি এটার সমাধান আমি দিব।
অভিযুক্ত বলধারা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মামুন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের নাতিন জামাই হাসানকে সাথে নিয়ে মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় ওই লোকটাকে আনা হয়েছিল। পরে মনির হোসেনের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বলধারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মাজেদ খান বলেন, আমি শুনেছি নারী সংক্রান্ত বিষয়ে ওকে ধরে এনে চড়-থাপ্পর দিয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তার এলাকায় পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি ছেলেদেরকে শাসন করে মুচলেকার কাগজটি চেয়েছি। আগামীকাল মঙ্গলবার আমার কাছে জমা দেয়ার কথা।
সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুমন কুমার আদিত্য বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তারপরও বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। বক্তব্য নিতে চাইলে ওসি স্যারের সাথে কথা বলে নিবেন।



