সংসদ উপনেতা, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর আসনে (ফরিদপুর-২) ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন তার ছোট ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু চৌধুরী। আসনটিতে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন ১৭ জন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত লড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, লাবু চৌধুরী বাদে আর যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন সবাই তার সাথে আছেন।
যাচাই-বাছাই শেষে গত মঙ্গলবার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সাজেদা চৌধুরীর ছোট ছেলে লাবু চৌধুরীকে। তবে দলীয় এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি নগরকান্দা উপজেলা, সালথা উপজেলা ও সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, লাবু চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় জামাল হোসেন মিয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলায় বাকিরা তাকেই সমর্থন দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামাল হোসেন বলেন, হ্যাঁ, বাকিদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা বলছেন, আপনি নির্বাচন করেন। আমরা আপনার সাথে আছি। বাকি প্রার্থীরা এখন আমার সাথেই আছেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার কারণ সম্পর্কে জামল হোসেন বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আছি। আমি নৌকার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে নগরকান্দা, সালথায় শুধু অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন চলছে। লোকজন মিথ্যা মামলায় ঘরছাড়া হয়ে আছে। জনগণকে বাঁচানোর স্বার্থে, জনগণের দাবির মুখে আমি নির্বাচন করছি।
লাবু চৌধুরী ছাড়া অন্য কাউকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিলে নৌকার বিপরীতে নির্বাচন করতেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জামাল হোসেন বলেন, না, লাবু চৌধুরী ছাড়া অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করতাম না।