পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া তুষখালী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে (৪০) হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং শরীর থেকে বাম পা বিচ্ছিন্নের ঘটনার রহস্য উৎঘাটন করেছে পুলিশ। এ হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে মূল ঘাতক মধ্য তুষখালী গ্রামের হাফেজ খাঁর ছেলে ইয়াসিনকে (৪০) ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যমতে পৌর শহরের বহেরাতলা খাল থেকে ওই হামলায় ব্যবহৃত দুটি দেশীয় দাঁ এবং গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির ব্যবহৃত দুটি মোবাইল পুলিশ জব্দ করে।
পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান (পিপিএম-সেবা) বুধবার দুপুরে মঠবাড়িয়া থানা কার্যালয়ে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রহস্য উৎঘাটন এবং আসামি গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং-এ এসব জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত মো: ইব্রাহীম, মঠবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ নূরুল ইসলাম বাদল, পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দ শাখাার ডিবি (দক্ষিণ) আসলাম উদ্দিন প্রমুখ।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে তুষখালী গ্রামের আইয়ুব আলীর শিকদারের ছেলে ও তুষখালী ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের একটি মামলায় হাজিরা দিতে তুষখালী থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলযোগে মঠবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যস্ততম সড়কের উত্তর মিঠাখালীস্থ ইউসুফ ফরাজীর বাড়ির সামনে দূবৃত্তরা তাদের ব্যবহৃত মাহিন্দ্র গাড়ি দিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় শফিকুল রাস্তায় পড়ে গেলে তারা ধারালো দাঁ দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপালে শরীর থেকে বাম পা বিচ্ছিন্নসহ পেট কেটে নাড়ি-ভুঁড়ি বেড়িয়ে আসে। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় শফিকুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে অবস্থার অবনতি দেখে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্তানান্তর করা হয়। ঘটনার পর থানা পুলিশ জড়িত থাকার সন্দেহে তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদের ছোট ভাই ও ওই বাজারে ব্যবসায়ী নাসির হোসেনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ওই রাতেই হামলায় ব্যবহৃত মাহেন্দ্র গাড়িটি পাশে ভাণ্ডারিয়া থানার শিংখালী গ্রাম থেকে উদ্ধার করে। পরে বিশ্বস্ত সোর্সের সহায়তায় গত ১০ অক্টোবর পুলিশ ওই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শফিকুলের প্রতিপক্ষ ইয়াসিনকে ঢাকার লালবাগ থেকে গ্রেফতার করে। ইয়াসিন গ্রেফতারের পর ওই হামলায় পাঁচজন জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে অকোপটে স্বীকার করেন।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতা হলো এজাহার ভুক্ত ১ নম্বর আসামি নাসির হাওলাদার।
পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রতিপক্ষ নাসির ও ইয়াসিনের পরিকল্পণা মোতাবেক গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইয়াসিন তার সহযোগীদের নিয়ে ঝাউতলার একটি বাসায় একত্রিত হয়। পরের দিন মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাজার হতে তিনটি দাঁ ৯০০ টাকা দিয়ে শফিকুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্রয় করেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর নাসিরের দেয়া তথ্যমতে শফিকুলের অবস্থান নিশ্চিত করলে গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন তার সহযোগীদের নিয়ে শফিকুলের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় শফিকুলের বাম পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন ও হাত, পেট এবং ডান পা গুরুতর জখম হয়। পরে ইয়াসিনসহ অন্যরা হামলায় ব্যবহৃত মাহিন্দ্রযোগে বহেরাতলা থেকে আলগী-মিরুখালী হয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে যান।
প্রেস ব্রিফং-এ আরো বলা হয়, টাকা লেনদেনের জের ধরে গ্রেফতারকৃত আসামি নাসির হাওলাদার আহত শফিকুলকে হত্যার উদ্দেশে ইয়াসিনকে গত দু’বছরের বিভিন্ন সময়ে নগদ এবং বিকাশের মাধ্যমে ২,৫০,০০০ টাকা প্রদান করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ওই দিন রাতে শফিকুলের মা মমতাজ বেগম নাসিরকে প্রধান আসামি করে সাতজন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার দিন রাতেই নাসিরকে গ্রেফতার করে এবং ইয়াসিনকে সোমবার ঢাকা থেকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করে।



