ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত দুই শিশুসন্তান ও তাদের মাকে নানার বাড়ি উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের কুল্লাবর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সেখানে মা ময়না আক্তারের (২৫) দুই পাশে কবরে দাফন করা হয় শিশু নিরব(২) ও রাইসা মনিকে(৭)।
আজ বুধবার দুপুরে দৈনিক নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত দুই শিশুর মামা মো: জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে লাশ আমাদের গ্রামের বাড়ি কুল্লাবরে নিয়ে আসা হয়। তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তিনটি কবরে মাকে মাঝখানে রেখে দুই সন্তানকে দুইপাশে সমাহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি শোকেবিহ্বল কুল্লাবর গ্রামবাসীও।
এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শুনেছি আজ বিকেলে খুনি গ্রেফতার হয়েছে। আমরা চাই, এই বিভৎস হত্যাকাণ্ডের খুনিকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হোক। যেন এই ধরনের অপরাধ আর কেউ করতে সাহস না পায়।’
এর আগে, গত সোমবার (১৪ জুলাই) ভোররাতে ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড টিএনটি রোড এলাকার জনৈক হাইয়ুমের ভাড়া বাসায় শিশু রাইসা(৭), নিরব (২) ও মা ময়না আক্তারকে(২৫) রান্না করার বটি (দা) দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে আসামি নজরুল ইসলাম। তিনি নিহত ময়না আক্তারের দেবর। নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সেনের বাজার এলাকার সলতু মিয়ার ছেলে আসামি নজরুল ইসলাম।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে জেলা পুলিশের একটি দল হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মো: নজরুল ইসলামকে(২৫) গ্রেফতার করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভাইয়ের বাসায় বিনা খরচে থাকা ও খাওয়ার খোঁটা দেয়ার ক্ষোভে দুই শিশু সন্তানসহ ভাবিকে গলা কেটে হত্যা করেছেন নজরুল ইসলাম। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।’
ওসি জানান, লোমহর্ষক ও বিভৎস এই ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে বিরাট কোনো কারণ নেই। পারিবারিক তুচ্ছ বিষয়ে ঘাতক দেবরের অসুস্থ জেদ এই ট্রিপল মার্ডারের মূল কারণ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি এসব তথ্য জানিয়েছে। আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ডের পর আজ বুধবার তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।






