ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সর্বত্রই আমন ধানের ক্ষেতে বাদামি ঘাস ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেতে এই পোকা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের জমিতে পোকার আক্রমণে ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে না গিয়ে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন বাজারের কীটনাশকের দোকানে কিছুক্ষণ বসে থেকে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ না করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেখতে ছোট ছোট বাদামি পোকার মতো এই ফড়িং ধান গাছের রস চুষে নিচ্ছে। ফলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ধান গাছ মরে হলুদ রঙ ধারণ করছে। এ পোকা প্রথমে ধান গাছের গোড়ায় আক্রমণ করায় কীটনাশক ছিটিয়েও তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার চাঁনপুর গাড়ো বাজার এলাকার দেবলা নকরেকের ১০৫ শতক জমির ধান কারেন্ট পোকায় প্রায় নষ্ট করে ফেলেছে। একই এলাকার চাঁনপুর উত্তরপাড়ায় মুসলেম উদ্দিনের বর্গাচাষি আবুল কাশেম জানান, তিনি এক একর জমিতে আমনের চাষ করেছেন। বাদামি ঘাস ফড়িং তার ক্ষেতের প্রায় বেশির ভাগই নষ্ট করে ফেলেছে। তাছাড়া সোলাইমানের আড়াই কাঠা, আনোয়ার হোসেনের এক একর, আব্দুল কাদেরের দেড় একর, আব্দুস সামাদের ৬ কাঠা, ইসলামের দুই একর, দালাল মিয়ার ৮ কাঠা, সিদ্দিক মিয়ার ৪ কাঠা, মাজেদুলের ১০ কাঠা, সাদেক মিয়ার ১২ কাঠা, আব্দুর রশিদের ৬ কাঠা, মিজান মিয়ার এক একর ও এপ্রি সাংমা এক একর জমিতে আমনের চাষ করেছেন। তাদের ক্ষেতে বাদামি ঘাস ফড়িং আক্রমণ করেছে।
কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তার এক একর জমিতে পোকায় আক্রমণের কারণে চারবার কোটন ও এছাটফ নামে কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। তারপরও পোকা দমন করতে পারছেন না। তেমনি ভালুকা সদরসহ উপজেলার হবিরবাড়ি, ধীতপুর, বিরুনীয়া, কাচিনা, ডাকাতিয়া, উথুরা, রাজৈ, ভরাডোবা, মল্লিকবাড়িসহ প্রায় সব এলাকাতেই কম বেশি বামামি ঘাস ফড়িং আক্রমণ করেছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে ধান চাষ করেছিলেন। সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করেন। বর্তমানে ধানের ফলন আসতে শুরু করেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু জমিতে ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু হঠাৎ কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
উপজেলার চাঁনপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাসুদ আমন ধানে পোকার আক্রমণের কথা স্বীকার করে জানান, তারা যথাসাধ্য মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষক দেবলা নকরেকের ধানের ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করে জানান, তাকে বারবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি ক্ষেতের তেমন খোঁজ না নেয়ায় এমনটি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জাহান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। এলাকায় কারেন্ট পোকা আক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের লোকবল কম রয়েছে। তারপরও যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি পোকার আক্রমণ থেকে ধান রক্ষায়।