ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সাগরে থাকা ড্রেজার ডুবে নিখোঁজ আট শ্রমিকের উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল, সন্ধ্যা ৭টায় পর্যন্ত নিখোঁজ শ্রমিকদের একজনকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে নিখোঁজ আটজনের কাউকে ঊদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডুবুরি দলের উদ্ধার কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে যথারীতি উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে। তবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা দুর্ঘটনা কবলিত ড্রেজার কুলে ভিড়ানোর চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ায় ওই স্থানে রাখা বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন সৈকত-২ পানিতে ভেসে গিয়ে ডুবে যায়।

নিখোঁজ শ্রমিকরা হলেন- আনিস মোল্লার দুই ছেলে মোল্লা (৩৮) ও ড্রেজার চালক ইমাম মোল্লা (২৫), আব্দুল হক মোল্লার ছেলে মাহমুদ মোল্লা (২৬), মোকুমদার হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার (২৫), ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে বশর হাওয়ালাদার (৩৫), লোকমান ফকিররের ছেলে জাহিদুল ফকির (২২), নুরু সরকারের ছেলে আলম সরকার (৩৮), রহমান খানের ছেলে তারেক মোল্লা (২০)। তাদের সকলের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার চরজৌন ইউনিয়নে।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধার কাজ শুরু করে। সাগরে জোয়া বেশি থাকায় এবং ডুবে যাওয়া ড্রেজারের লোহার জানালা বন্ধ থাকায় কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রাতে উদ্ধার অভিযান সমস্যা তাই স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্য ট্রলার দিয়ে ড্রেজারটি কুলে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার সাহেরখালি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর চায়না হারবার এলাকায় বেড়িবাঁধ থেকে আনুমানিক ৫০০ ফুট দূরত্বে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রভাবে ড্রেজারটি উল্টে এ ঘটনা ঘটে।