সম্প্রতি বন্যহাতির তাণ্ডবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্তবর্তী গাড়োপাহাড়-সংলগ্ন ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে রবিশস্যের বীজ বিতরণ করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বীজ বিতরণ উপলক্ষ্যে কৃষক সমাবেশ এবং ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের সাথে জনসমাগমের প্রতিযোগিতায় নয় বরং ব্যর্থ, অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। তাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ খুচরা চালাকি করে জনগণের কাছে ধরা খেয়েছে। তারা সরকারি প্রটেকশন, পৃষ্ঠপোষকতায় শত শত বাস রিকুইজিশন করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও তাদের কর্মসূচিতে জনসমাগম ঘটাতে পারে না। আর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস পরিবহন বন্ধ করেও বিএনপির চলমান গণসমাবেশে জনস্রোত ঠেকাতে না পেরে তারা বাকসন্ত্রাস করছে। শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশের আগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। আন্দোলনে জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা ও সমর্থন দেখে তারা বালখিল্যতা করছে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র, নির্বাচন,আন্দোলন নিয়ে যেসব কথা বলেছেন বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করলে রাজনীতি, গণতন্ত্র, নির্বাচনের পথকে সঙ্কুচিত ও নিয়ন্ত্রণ করত না। জনগণকে ভয় পেতো না। কারো দয়ায় নয়, সরকারের কূটকৌশল, দমন নিপীড়ন মোকাবেলা করে বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করছে। আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা, বিশ্বাস যদি থেকেই থাকে তবে পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে ভয় কেন?

‘বিগত দিনে জনগণ আওয়ামী লীগকে বারবার ভোট দিয়েছে, আবারো দেবে,’ প্রধানমন্ত্রীর এমন উক্তি সত্যের অপলাপ এবং ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো আবারো প্রহসন ও ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের পূর্বাভাস। ২০১৪ ও ১৮ সালে আওয়ামী লীগের অধিনে পাতানো-সাজানো নজিরবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন দেখলে তা হবে দুঃস্বপ্ন। সেই নির্বাচনের স্বপ্ন আর সফল হবে না। দুর্নীতি, লুটপাট করে দুঃশাসন কায়েম করে জনজীবন দুর্বিসহ করে শোচনীয় পরিণতির ভয়ে সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। সরকারের কারণেই দেশ আজ সর্বগ্রাসী সঙ্কটে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গিলে খেয়েছে বলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক সঙ্কট কি শুধু বাংলাদেশের জন্য? ছয় মাস আগে সরকার নেপালে এই শীতে বিদ্যুৎ সহযোগিতা দিতে চেয়েছিল, বিদ্যুৎ ঘাটতিতে থাকা নেপাল বৈশ্বিক সঙ্কটের মধ্যে কোনো যাদুর বলে বিদ্যুৎ ঘাটতি মিটিয়ে এখন উল্টো বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সাহায্য দেবার প্রস্তাব দেয়? প্রকৃতপক্ষে বৈশ্বিক সঙ্কটের কথা বলে সরকার নিজের ব্যর্থতাকে আড়াল করছে, জনগণকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছে। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে আহ্বান করেন এই নেতা।