গোপালগঞ্জে খালিয়া ইউনাইটেড অ্যাকাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রোববার (৩০ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- আসাব আলী মোল্লা (৪৫), আত্তাব মোল্লা (৩৫), মোহাম্মদ মোল্লা (৩২), আজিজ মোল্লা (৩০), মনিরুল শেখ (৩৮), রহিজুল শেখ (৩৫), বশার শেখ (৩৩), হামীম শেখ (৩৫, আল আমীন শেখ (২৮), রমীম শেখসহ (৩০) ১২ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও বাকিদের নড়াইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসা মো: মোহসীন উদ্দিন ও গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বর খালিয়া ইউনাইটেড অ্যাকাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েত উদ্দিন হিমুর লোকজন ইছাখালী এলাকায় ভোট চাইতে গেলে তাদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় বর্তমান চেয়ারম্যান এফ এম মারুফ রেজার লোকজন। পরে বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফের লোকজন রাতে খালিয়া গ্রামে ভোট চাইতে গেলে তাদেরকে ভোট চাইতে নিষেধ করে সেখান থেকে চলে যেতে বলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েতের লোকজন। এ নিয়ে সারা রাত ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এর জের ধরে রোববার সকালে মারুফ উপস্থিত থেকে তার লোকজন নিয়ে খালিয়া গ্রামে হেমায়েতের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০জন আহত হন। এ সময় হামলা চালিয়ে ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানঘর ভাঙচুর করে লুটপাত চালায় এবং ঘরে রাখা পাটে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সদর থানার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাব্বির রহমান বলেন, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহসিন উদ্দীন বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।