কুমিল্লায় মায়ের সামনে ছেলেকে শাসন করার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুর রহিম (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।

শুক্রবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলার জায়রগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণপুর (ছগুরা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ নারায়ণপুর (ছগুরা) গ্রামের লতিফ মিয়ার বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে সিয়াম (১৫) শুক্রবার সকালে তার মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এজন্য একই বাড়ির মরহুম জামাল মিয়ার ছেলে মামুন (২৫) তাকে শাসনের নামে বেধড়ক মারধর করে। এতে ক্ষুব্ধ সিয়ামের পরিবারের সাথে মামুনের পরিবারের এক দফা সংঘর্ষ হয়। দুপুরে ওই বাড়ির মরহুম আলাউদ্দিনের মেয়ে শাহিনুর আক্তার নীলা (২৭) কুমিল্লা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুনের নেতৃত্বে একদল লোক নীলাকে লাঠিপেটা করে। তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) ভর্তি করা হয়।

ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিয়াম ও নীলার পরিবারের সাথে মামুনের পরিবারের নতুন সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪/১৫ জন আহত হয়। তারা মামুনদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় সংঘর্ষে একই বাড়ির জীবন মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম মারাত্মক আহত হন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্যরা দেবিদ্বার ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

মামুন জানান, ‘সিয়াম তার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করায় আমি তাকে শাসন করি। এ নিয়ে সিয়ামের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন আমাদের ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার পর আমরা সবাই বাড়ি ছাড়া।’

নিহত রহিমের বাবা জীবন মিয়া ও মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমাদের ছেলে সংঘর্ষে জড়িত ছিল না। সে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়। আমরা আমাদের ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত জনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে এজাহার পাওয়ার পর মামলার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।