কলেজ কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির কারণে জামালপুর শিমুলতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ২৫ জন পরীক্ষর্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হককে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা। পরে সাত-পাঁচ বুঝিয়ে রক্ষা পান অধ্যক্ষ।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে শনিবার রাতে ২৫ জন পরীক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তানভীর হাসান রুমানের বাসার সামনে অবস্থান নেন। ইউএনও বাসায় না থাকায় ফিরে যান তারা। পরে পরীক্ষার্থীরা ইসলামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ মাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক এ বিষয়ে মুর্শেদা আক্তার নামের এক সহকারী লাইব্রেরিয়ানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের ফরম পূরণের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। তারা কলেজে না এসে সহকারী লাইব্রেরিয়ান মুর্শেদা আক্তারের নিকট ফরম পূরণের টাকা দেয়। অথচ মুর্শেদা দীর্ঘ ছয় মাস ধরে প্রতিষ্ঠানে আসেন না।’
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মুর্শেদা আক্তারকে ফরম পূরণের জন্য চার থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়েছেন তারা। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মুর্শেদা আক্তার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে ফরম পূরণ না হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হককে দায়ী করেন।
অভিযুক্ত মুর্শেদা আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের থেকে টাকা নিয়েছি। কিন্তু আমি অধ্যক্ষ স্যারের সাথে লেনদেন করেছি।’
এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তানভীর হাসান রুমান বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা আমাকে শনিবার বিষয়টি জানিয়েছে। একদিন আগে জানালে হয়তো কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে একটি ব্যবস্থা নেয়া যেত।’
তিনি বলেন, অধ্যক্ষ সাহেবকে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। আজকে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো, সেটি ছাড়া বাকি পরীক্ষাগুলো গ্রহণের ব্যবস্থা করা যায় কিনা, চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি লাইব্রেরিয়ান কিংবা অধ্যক্ষ যিনিই অপরাধী হবেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, (৬ অক্টোবর) রোববার সারাদেশের মতো ইসলামপুরেও সাধারণ, কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।



