দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় চলছে দেশীয় সংস্কৃতি লোকসংগীতের অংশ গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী কবি গানের আসর। সাধারণত রাত ১০টায় শুরু হয় এসব কবি গানের আসর। যা চলে প্রায় সকাল পর্যন্ত।

শনিবার দৌলতপুর ইউনিয়নের শ্রীপুরে অনুষ্ঠিত কবি গানের আসরে বিকেল থেকেই দারাড়পাড়, শ্রীপুর-উত্তরপাড়া, দূর্গাপুর, টাটকপুর, কুশলপুর, পলিপাড়া, দৌলতপুরসহ আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষের সমাগম ঘটে। রাত যতই গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে মানুষের সমাগম।

'সাদা সাদা, কালা কালা' গান দিয়ে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী কবি গান। বাঁশের উপর কাপড়ের সামিয়ানা টাঙিয়ে তার মাঝখানে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন বাদকরা, পাশেই এপারে একদল ওপারে একদল গান করছেন। চারপাশে শত শত লোক ভিড় করছেন গান শোনার জন্য। কেউ মাটিতে খড় বিছিয়ে বসে গান শুনছেন কেউ বা দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকে শীতের চাদর মুড়িয়ে আসছেন গান শুনতে। এমন জমজমাট পরিবেশ দেখা যায় আসরে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার নিত্যনন্দ কবি গানের দল দিতি রানী সরকার এবং ওপার বাংলার লোক কবি শিলিগুড়ির ফুলাবাড়ী উপজেলার সামিনুল ও তার দল এই কবি গানে অংশগ্রহণ করেন।

চণ্ডিপুর থেকে কবি গান শুনতে আসা ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোজ্জামেল হক বলেন, এক সময়ের গ্রাম-বাংলার বিনোদনের অন্যতম খোরাক এই কবি গান। তাৎক্ষণিক সুরের সাথে কথা বেঁধে মঞ্চে এ গান পরিবেশন করা হয়।
পাল্টাপাল্টি যুক্তি-তর্ক আর গানে গানে দুই কবিয়ালের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চলে এ কবি গান। গানের আসরে দুটি দলই পালাক্রমে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গান পরিবেশন করে। এটি বাংলা লোকসংগীতের একটি বিশেষ ধারা।

আয়োজক ইনসান আলী বলেন, এত লোকজনের সমাগম হবে বুঝতে পারিনি। সত্যি ভীষণ অবাক হয়েছি এবং ভাল লাগছে। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে কবি গান উপভোগ করেছেন।