ময়মনসিংহের ভালুকায় খোলাবাজারে খাদ্যশস্য (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চালের সাথে আটা বিক্রির কথা থাকলেও গত দুই মাস ধরে আটা বিক্রি হচ্ছে না। এতে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান বাজারে চাল ও আটার মূল্য লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে এবং খোলাবাজারে আটা বিক্রি না হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ভালুকাতেও খোলাবাজারে খাদ্যশস্য (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রয়েছে। পৌর এলাকায় ওএমএস এবং ইউনিয়নগুলোতে ডিলারদের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু আছে। বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা বিক্রির পাশাপাশি, ১৮ টাকায় আটা বিক্রির কথা থাকলেও প্রথম থেকেই আটা বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বাজার থেকে খোলা আটা ৬০ টাকা ও প্যাকেটজাত আটা ৬৪ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা সম্ভব হয়ে উঠছে না বলে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ।
সরেজমিন খোঁজ নিলে সাধারণ ক্রেতারা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ও পৌর এলাকায় ওএসএস’র চাল বিক্রিতে অনিয়ম করা হচ্ছে। বিক্রির প্রথম দিকে শুধু টিপসহি নিয়ে চাল বিক্রি করা হলেও, বর্তমানে এনআইডি কার্ডের ফটোকপির মাধ্যমে ক্রেতাদের মধ্যে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে অসাধু ডিলাররা একই কার্ড বারবার দেখিয়ে নিজে টিপসহি দিয়ে মাস্টাররোল তৈরি করে কালোবাজারে তা বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে অনেক সময় দোকানে গিয়েও চাল ক্রয় করতে পারছেন না ক্রেতারা। কারণ হিসেবে ডিলাররা বলছেন, চাল বিক্রি শেষ। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারদের সাথে যোগসাজশ করেই এবং তাদের তদারকি না থাকার সুযোগে অসাধু ডিলাররা এসব অনিয়ম করছেন। সম্প্রতি উপজেলার তামাট এলাকায় মাছের খাদ্যের বস্তায় করে তিনটি ভ্যানে পাচারেরর সময় সরকারি সন্দেহে ২৫ বস্তা চাল জব্দ করেন এলাকাবাসী। এ সময় ভ্যানচালক আব্দুর রশিদ (৫০), ইমান আলী (৫৫), আসাদুল (৩৮) ও কুদ্দুস (৬০) নামে চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু পরে জব্দকৃত চালগুলো সরকারি চাল কিনা তা প্রমাণিত না হওয়ায় আটকদের ছেড়ে দেয়া হয়।
ভালুকা পৌরসভার মেজরভিটা এলাকার ওএমএস ডিলার মো: মতিউর রহমান জানান, শুরুতে জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছিল। তবে বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশানুযায়ী ক্রেতার এনআইডির ফটোকপি রেখে ও খাতায় স্বাক্ষর বা টিপসহি নিয়ে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শহিদুল ইসলাম জানান, ভালুকা পৌর এলাকায় চারজন ডিলারের মাধ্যমে শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন এক টন করে চার টন চাল এনআইডি কার্ডের কপি ও খাতায় টিপসহি রেখে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আটা বিক্রি করা হচ্ছে না।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: বুলবুল আহমেদ জানান, শুধু জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় চাল বিক্রির পাশাপাশি আটা বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে আটা বিক্রি করা হচ্ছে না।