চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীর দখল-দূষণ বন্ধ করা, নদীর অবাধ প্রবাহ ও নৌ-চলাচলের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করার দাবিতে সংহতি শোভাযাত্রা, মানবন্ধন, সমাবেশ ও নৈাকা নিয়ে মাথাভাঙ্গা নদী পরিদর্শন করেছে চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ‘নদী বাঁচাও আন্দোলন’ কমিটি।

শনিবার দিনব্যাপী বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় ৬৫ জন প্রতিনিধি মাথাভাঙ্গা নদী পরিদর্শন করবে। এর আগে সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্ক লেন রোড (এসপি গলি) থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শোভাযাত্রাটি কোর্ট রোড, পুরাতন হাসপাতাল রোড হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মাথাভাঙ্গা ‘নদী বাঁচাও আন্দোলনের’ সদস্য ও সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মাননবন্ধন শেষে মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচ থেকে হাটবোয়ালিয়া অভিমুখে সংবাদকর্মী, পরিবেশবীদ, এনজিও, রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ৬৫ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি।

যাত্রায় নেতৃত্ব দেন মাথাভাঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী। দু’টি বড় নৌকার বহর নিয়ে সংগঠনটি মাথাভাঙ্গা নদীর চুয়াডাঙ্গা অংশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্কে পৌছাবে।

মানববন্ধন ও নৌকায় মাথাভাঙ্গা নদী পরিদর্শনে উপস্থিত আছেন- মাথাভাঙ্গা নদী বাচাঁও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, সহ-সভাপতি শাহ আলম সনি, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, উদীচী চুয়াডাঙ্গার সাধারণ সম্পাদক হাবিবি জহির রায়হান, প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাক আব্দুস সালাম, নদী পরিব্রাজক দল কুষ্টিয়ার সভাপতি খলিলুর রহমান মজু, নদী পরিব্রাজক দল চুয়াডাঙ্গার সভাপতি কোরবান আলী মণ্ডল, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারি মাহফুজুর রহমান মুকুল, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ আলাউদ্দীন ওমর, মাথাভাঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী ও উদীচী প্রতিনিধি শাওন কুমায় রায় প্রমুখ।

মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণ দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে মাথাভাঙ্গা নদী পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। পরিদর্শনে জেলা প্রশাসনের ভূমি সংশ্লিষ্ট একজন প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি উপস্থিত আছেন। এছাড়াও মাথাভাঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি খুলনার কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ৫০ জন প্রতিনিধি দিনব্যাপী আমরা মাথাভাঙ্গা নদী পরির্দশন করবো। শিগগিরই পরিদর্শনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন নদ-নদী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। আমরা দেখেছি মাথাভাঙ্গা ভালো নেই। দখল হয়ে যাচ্ছে। দূষণ করা হচ্ছে। পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। কোমড় দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এই নদী না বাঁচলে চুয়াডাঙ্গার কোনো নদী বাঁচবে না। চুয়াডাঙ্গাকে বাঁচাতে হলে মাথাভাঙ্গাকে বাঁচাতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মানুষের অসচেতনতার কারণে মরা পশুপাখি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে বাড়ছে নদী দূষণ। জেলা শহরের বেশ কয়েকটা ড্রেনের মাধ্যমে নোংরা পানি নদীতে দেদারছে নামছে। এতে নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছে। নদীর তীরে অবৈধভাবে পানবরজসহ বিভিন্ন প্রকার চাষাবাদ করা হচ্ছে। মাটি খননের কারণে তা ধুয়ে নদীতে নেমে নাব্যতা নষ্ট করছে। অবাক হলেও সত্য যে, নদীর বুক থেকে বালু উত্তোলন করে উপকারের বদলে ক্ষতিই ডেকে আনা হচ্ছে। কিছু স্থানে রয়েছে কোমর। তীরে কারেন্ট জাল দিয়ে নদীর স্বাভাবিক স্রোতের প্রতিবন্ধকতায় শুধু সৃষ্টি করা হচ্ছে না, ক্ষতিকারক ওই জালের কারণে ছোট-বড় মাছের পোনা রেনুও মারা পড়ছে। এসব থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনের যেমন আশু পদক্ষেপ নিতে হবে, তেমন সর্বস্তরের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও রক্ষা কমিটির উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চলবে।

উল্লেখ্য, ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীটির দৈর্ঘ্য ১২১ কিলোমিটার, প্রস্থ ২৯ মিটার এবং দর্শনার নিকট গভীরতা ১০ মিটার। নদী অববাহিকার আয়তন ৫০০ বর্গকিলোমিটার। মাথাভাঙ্গা নদীর উৎপত্তি মুর্শিদাবাদ জেলার জলাঙ্গির উৎস থেকে আনুমানিক ১৬ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার মহিষকুন্ডি গ্রামের পদ্মা নদী অংশ হতে।