জনপ্রতিনিধিদের টাকা না দিলে মিলছে না বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার কার্ড। টাকার খেলায় প্রকৃত ভাতা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে সরকারের খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের বাইরে থাকছে অতিদরিদ্র ও অসহায় মানুষেরা। বাড়ছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে ফকির পুনর্বাসন প্রকল্প।
‘হামরা ট্যাকাও দিব্যার পাই না, ভাতার কার্ডও পাই না। তাই মানুষের ঘরে দুয়ারে ঘুরি, ভিক্ষা করি জীবনটা বাঁচাই।’ এভাবে তাদের কষ্টের কথাগুলো জানালেন ভাতা বঞ্চিত রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নুর জাহান, রশিদা, এলিয়া ও সুরতন।
অস্বচ্ছ, শারীরিকভাবে অক্ষম, অসহায় দুঃস্থ ও ভূমিহীনদের সরকারিভাবে ভাতা দেয়ার কথা থাকলেও রংপুরের মিঠাপুকুরে তা সহসা মিলছে না।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভাতাভোগী ও ভাতা বঞ্চিতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধিদের টাকা না দিলে ভাতার কার্ড পাওয়া যায় না। টাকা দেয়ার প্রতিযোগিতার কারণে সমাজের ছিন্নমূল ও ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িতরা এ প্রকল্পের বাইরে থাকছে। ফলে উপজেলায় ভিক্ষুকের সংখ্যাও বাড়ছে।
ভাতা বঞ্চিতরা জানান, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে ভাতার জন্য ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হয়ে গেছি। এক দিন ভিক্ষা না করলে উপোস করতে হয়। কত দিন উপোস করে তাদের পেছনে ঘুরেছি; কিন্তু ভাতা তো দূরের কথা, আশ্বাসও পাইনি। তাই ভিক্ষা করে খাই।’
ভাতা বঞ্চিত বডবালা ইউনিয়নের পুর্ব বডবালা গ্রামের বিধবা শাহাজাদি বেওয়ার (৭০) ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন তাকে ভাতা প্রদানের মৌখিক নির্দেশ দেয়। এরপরও তা এখনো কার্যকর হয়নি।
একইভাবে দূর্গাপুর গ্রামের ছকিনা বেওয়াও (৭৫) দীর্ঘ দিন ধরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের চকদূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিধবা রশিদা বেওয়া (৭০) অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান টাকা ছাড়া ভাতার কার্ড দেন না। তিন হাজার টাকা চান।
বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের ভাতাভোগী মনোয়ারা বেগম জানান, মেম্বার পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে কার্ড করে দিয়েছেন।
বড়বালা ইউনিয়নের গুটিবাড়ী গ্রামের আব্দুল হালিম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানকে তিন হাজার টাকা দিয়ে কার্ড নিয়েছেন।
খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় সব জায়গায় একই অবস্থা। উপজেলা সমাজসেবা অফিস বলছে তাদের এখানে কিছু করার নেই। ইউনিয়ন পরিষদ কমিটি তালিকা করে দাখিল করে। ওই তালিকা উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি চুড়ান্ত করে। তারা তালিকা অনুযায়ী ভাতা দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শুনি, কিন্তু কেউ অভিযোগ করে না।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম জানান, এ ধরনের অভিযোগ আছে, কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই। নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কমিটি ও উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমরা শুধু ভাতা দিয়ে থাকি।



