নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নিখোঁজের ৯ ঘন্টা পর মনসুর আলী কবিরাজ (৩৯) নামের এক চানাচুর বিক্রেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ইউক্যালিপটাস বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিখোঁজ হন এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে।

নিহত মুনসুর উপজেলার গোয়ালমান্দা ফকিরপাড়া গ্রামের বদের আলী কবিরাজের ছেলে। তিনি নিজ বাড়িতে চানাচুর তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন দোকানে ফেরি করে বিক্রি করতেন।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি তাকে গল্প করার জন্য ডেকে নিয়ে গেলে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। নিহতের পরিবার সারা রাত বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুজির পরও কোনো সন্ধান পায়নি। বুধবার সকালে স্থানীয় চাষীরা জমিতে আমন ধান উঠাতে এসে নিহতের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ দূরে মাঠের মধ্যে ইন্তাজ আলীর ইউক্যালিপটাস বাগানে তার লাশ দেখতে পায়। পরে মুনছুরের পরিবার ও থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দসহ লাশ উদ্ধার করে।

নিহত মনসুর রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালিকাপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি থেকে আমার স্বামী মনসুরকে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পরেও ফিরে না আসায় আমি স্বামীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু এ সময় মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হাসিনা বেগম আরো জানান, এরপর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও সন্ধান মেলেনি। আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে মাঠের ইনতাজ আলীর ইউক্যালিপটাস বাগানে তার লাশ দেখতে পাওয়া যায়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে মুনসুর আলীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।