হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পুকুরে ডুবে থাকা নৌকার নিচ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আকরাম খান (৯) নামের এক মাদরাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদরাসার সুপারসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ১১ নম্বর মক্রমপুর ইউনিয়নের মক্রমপুর গ্রামে স্থানীয় লোকজনের সংবাদের ভিত্তিতে বানিয়াচং থানা পুলিশ এ লাশ উদ্ধার করে।
নিহত আকরাম ওই গ্রামের মৃত দৌলত খানের ছেলে। সে মক্রমপুর মরহুম সামায়ুন কবির হাফিজিয়া এতিমখানা মাদরাসার ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম খান ও তার ভাই বিজয় খানের বাবা প্রায় চার বছর আগে মারা যান। তাদের বাবার মৃত্যুর পর মা ফুল তারা বেগম বছর খানেক আগে সৌদি আরবে চলে যান। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাদেরকে এ মাদরাসায় ভর্তি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টার সময় খাওয়া-দাওয়া শেষে মাদরাসার একটি রুমে আকরাম খান ও বিজয় খান ঘুমিয়ে থাকে। সকাল ১১টার দিকে বিজয় খান ঘুম থেকে উঠে দেখে, আকরাম খান রুমে নেই। পরে সে তার নানা-বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে আকরামের খোঁজ করতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদরাসার পাশেই একটি পুকুরে ডুবানো নৌকার নিচে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আকরামের লাশ দেখতে পায় মাদরাসার ছাত্ররা। পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বানিয়াচং সার্কেল পলাশ রঞ্জন দে ও বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মাদরাসার ছাত্র ও স্থানীয় লোকজনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ, নিহতের মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। আটকদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এ হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারব।’



