জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোর লেন মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনটি সংস্কারের নামে প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ দিন ধরে পাথর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এতে করে পথচারী ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ যেন পাথর বিছানো মহাসড়ক! যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে ছিটে যাওয়া পাথরে অনেকেই আহত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
গত বর্ষার আগে থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনটির ভালুকা ও ত্রিশাল অংশের বেশ কিছু জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে এবড়োখেবড়ো হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি সড়কটির যেসব জায়গায় যানবাহনের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছিল সেসব স্থানে মেরামতের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। বেশ কিছুদিন আগে ভালুকা অংশের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ৮০০ মিটার সড়কে ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। মেরামতের জন্য ভালুকার কাঁঠালী থেকে ত্রিশালের রায়মনি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কে বিছানো হয়েছে পিচ মিশানো পাথর। ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএসটি) পদ্ধতিতে সড়ক মেরামতের জন্য পাথরগুলো বিছানোর কারণে গাড়ির চাকার ঘর্ষণে পুরো রাস্তায় তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। আর এসব পাথর এখন পথচারী ও যানবাহনের জন্যও যেন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসব পাথরের উপর দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে গাড়ির চাকার ঘর্ষণে পাথর ছিটে গিয়ে পড়ছে পথচারীদের গায়ে। বিশেষ করে মহাসড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, ব্যাটারি ও সিএনজি-চালিত অটোরিকশা, টেম্পোর যাত্রীরা প্রায়ই দুর্ঘটানার শিকার হচ্ছেন। বেশ কয়েক বছর আগে থানা মোড় এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পৌরসভার বাগড়াপাড়া এলাকার মোমেন আলীর ছেলে এসএসসি পরিক্ষার্থী শাওন ইসলাম ট্রাকের চাকার ঘর্ষণে ছিটে আসা পাথরের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মহাসড়কের ঢাকাগামী লেন দিয়ে প্রতিদিন ড্রামে পানিভর্তি মাছবাহী অসংখ্য ট্রাক চলাচল করছে। এতে সড়কটির ভালুকা বাসস্ট্যান্ড থেকে খিরু ব্রিজ পর্যন্ত পথচারী ও যানবাহন চলাচলে একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে সড়কের কিছু অংশ ঢালাই করার কারণে পথচারীদের মাঝে একটু স্বস্তি ফিরে আসে; কিন্তু অন্যান্য ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য বিশাল এলাকাজুড়ে দীর্ঘ দিন ধরে পাথর ফেলে রাখা হয়েছে। এ কারণে মহাসড়ক পার হতে বা রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় পথচারীদের।
পথচারী কাওসার খান জানান, রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহী বাসের চাকার নিচ থেকে একটি পাথর ছিটকে এসে তার হাতে লাগে। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। কাওসার বলেন, পাথরটি মাথায় লাগলে হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত।
হাফিজুল ইসলাম নামে এক গার্মেন্টকর্মী জানান, তারা প্রতিদিন এ সড়কপথেই হেঁটে চলাচল করেন। তখন সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকতে হয় কখন জানি পাথর ছুটে এসে গায়ে লাগে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাস্তাটি ফেলে রাখা উচিত হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ময়নসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী কে বি এম সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি বেশ কয়েকদিন আগে এখানে যোগদান করেছেন। ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএসটি) পদ্ধতিতে সড়ক মেরামত করলে প্রথম দিকে কিছু পাথর উঠে যায়। তাই অতিদ্রুত বিষয়টির সমাধান করা উচিত।
ভালুকায় সড়ক সংস্কারের নামে পাথর বিছিয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোর লেন মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনটি সংস্কারের নামে প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ দিন ধরে পাথর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এতে করে পথচারী ও ছোট-বড় যানবাহন...



