গাজীপুরের কালীগঞ্জ অঞ্চল দিয়ে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সড়কের পাশাপাশি অতিক্রম করেছে রেলসড়ক পথ। অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো যেন এক একটা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রেলক্রসিংগুলোতে ঘটছে একের পর এক মারাত্মক দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। গত এক বছর ধরে অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন যানবাহনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানী হচ্ছে এবং এতে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেককেই।

উল্লেখ্য যে, গত ২২ নভেম্বর দুপুরে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সড়কের আড়িখোলা ও ঘোড়াশাল স্টেশনের মধ্যবর্তী বড়নগর রোড সংলগ্ন খঞ্জনা এলাকায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক আহসান হাবিব তারেক (৩২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাইকের অপর আরোহী আমিনুল ইসলাম (৩৫) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে মারা যান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন খঞ্জনা (বড়নগর রোড) রেলক্রসিংয়ে পৌঁছলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী রেলেওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে এই রেল সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ভৈরব হয়ে ময়মনসিংহে প্রায় ৫০টি ট্রেন যাতায়াত করে থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলা সীমানায় দুটি সুরক্ষিত ও আটটি অরক্ষিতসহ মোট ১০টিরও বেশি রেলক্রসিং রয়েছে। এগুলো হলো পুবাই ব্রীজ সংলগ্ন (শিমুলিয়া), নলছাটা, দড়িপাড়া, বান্দাখোলা (কামারবাড়ী), তুমলিয়ার কাপাসিয়া মোড় সংলগ্ন (সাদ্দাম মার্কেট), খঞ্জনা (বড়নগর রোড), বালীগাঁও (মোড়ল মার্কেট), বালীগাঁও (চৌধুরী বাড়ি), বাঘারপাড়া, ও চৈতারপাড়া (মূলগাও মাদরাসা সংলগ্ন ) রেলক্রসিং।

এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে শিমুলিয়া ও দড়িপাড়া এলাকার দুটি রেলক্রসিংয়ে রেলওয়ের অনুমোদিত গেইটম্যান ও গেইটবার থাকলেও বাকি আটটি রেলক্রসিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ সকল রেলক্রসিংগুলোতে নেই কোনো গেইটম্যান বা গেইটবার। ফলে পথচারী, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে যানবাহন প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের দাবি কিছু দিন পরপরই রেলওয়ে সড়কের অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ সকল রেলক্রসিংয়ে গেইটম্যান না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত রেলক্রসিংগুলোতে গেইটম্যান ও গেইটবারের ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেন তারা।

নরসিংদী রেলেওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, সাদ্দাম মার্কেট ও খঞ্জনা এলাকা বিপদজনক রেলক্রসিং। প্রায়সই এ সকল রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার খবর পাই। এছাড়াও কালীগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি রেলক্রসিংয়ে গেইটম্যান না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে গেইটম্যান না থাকায় সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া আছে। চালকেরা দেখে শুনে সর্তকতার সাথে গাড়ি না চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। সতর্কতার সাথে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।