ঘরের ভেতরে তিন দিন ধরে পড়ে আছে ভাইয়ের লাশ। আর ওই লাশের পাহারা দিচ্ছেন দুইবোন। ভাইয়ের লাশের পাশেই চলছে তাদের খাওয়া-দাওয়াসহ দৈনন্দিন সব কার্যক্রম।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি টের পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের বাঙ্গালীপুর দারুল উলুম মাদরাসা সড়ক এলাকায়।

মৃত যুবকের নাম বখতিয়ার হোসেন (৩৮)। তিনি ওই এলাকার মৃত সালামত আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মৃত সালামত আলীর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে মৃত বখতিয়ারসহ বড় দুই বোন মাহাতারা আকতার (৪৬) ও রোকসানা বেগম (৪৫) মানসিক ভারসাম্যহীন। তারা তিনজন একসাথে বসবাস করতেন। বাখতিয়ারের বাসা সংলগ্ন তার নিজস্ব একটি লন্ড্রির দোকান রয়েছে। সেখান থেকে যা আয় হতো, তা দিয়েই কোনোরকমে দিন কাটে তাদের। আর মৃত বখতিয়ারের বড় ভাই এখলাক মিয়া (৫০) শহরের মুন্সিপাড়ায় সস্ত্রীক ভাড়া বাসায় থাকেন।

প্রতিবেশী মীর ইরফান আলী শিমুল বলেন, তিন দিন থেকে দোকান বন্ধ থাকায় কাপড় লন্ড্রি করতে পারছিল না মহল্লার লোকজন। তাদের মধ্যে একজন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে দোকান সংলগ্ন বাসায় ডাকাডাকি করে কাপড় লন্ড্রির কথা বললে তার বোন মাতাহারা জানান- কাপড় লড্রি হবে না; বখতিয়ার মারা গেছে। পরে বাসার একটি কক্ষের বিছানায় বখতিয়ারের লাশ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এ সময় লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে খবর পেয়ে তার বড় ভাই এখলাক মিয়া ছুটে আসেন।

এখলাক মিয়া বলেন, ছোট ভাই দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ ছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তারা মৃত্যুর সংবাদটি কাউকে জানাতে পারেনি।
তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বোন মাহাতারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বুধবার কোনো একসময় বখতিয়ার মারা গেছেন।

সৈয়দপুর পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল হোসেন জানান, পুরো পরিবারটি মানসিক রোগে আক্রান্ত। তারা কারো সাথে মেলামেশা করেন না। অনাহারে থাকলেও কারো কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করে না। অথচ তারা প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। মৃত বখতিয়ারের দাফন কাজ তারা (দুই বোন) নিজেরাই বাসার পেছনে করতে চান।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনেছি মৃত ব্যক্তিসহ ওই পরিবারের তিনজন মানসিক ভারসাম্যহীন। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের অনুরোধে ও মৃতের বড় ভাইয়ের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফন করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।