মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী এলাকার রিয়া ক্লিনিক থেকে চুরি যাওয়া এক নবজাতক শিশুকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে সাটুরিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- সাটুরিয়া উপজেলার জান্না উত্তরপাড়া এলাকার মো: হাসান আলীর ছেলে রিয়া ক্লিনিকের ম্যানেজার আল মামুন (২৫), একই উপজেলার কামতা এলাকার শামসুল হকের ছেলে মেইমান আলী (৩৮), ইমান আলীর স্ত্রী ময়না বেগম (৩২) ও ফুকুরহাটি মাঝিপাড়া এলাকার আক্তার হোসেনের স্ত্রীর শিরিন আক্তার (২৬)।


গতকাল রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ গোলাম আজাদ খান।
গত ১৯ নভেম্বর শিবালয় উপজেলার নালী এলাকার জাফরের স্ত্রী শিউলি আক্তার ওরফে চাঁদনী সন্তান প্রসবজনিত বিষয়ে তার পরিচিত নাজমুল হোসেনের সাথে কথা বলেন। নাজমুল উপজেলার নয়াডিঙ্গী রিয়া ক্লিনিকের ম্যানেজার মামুনের মাধ্যমে শিউলিকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিউলির একটি পুত্রসন্তান হয়। প্রসবের এক ঘণ্টার মধ্যে ওই ক্লিনিকের ম্যানেজার আল মামুনের সহযোগিতায় নাজমুল হোসেন, ইমান আলী, ময়না খাতুন ও শামসুল হক ওই নবজাতক শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে শিউলি আক্তার কিছুটা সুস্থ হয়ে তার সন্তানকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি এবং ক্লিনিকের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু ক্লিনিকের মালিক ও নাজমুল এ বিষয়ে কোনো কথা বলে না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে তার নবজাতক সন্তানকে না পেয়ে গত শনিবার নবজাতক শিশু চুরিসংক্রান্ত বিষয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।


পরে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ গোলাম আজাদ খানের নির্দেশক্রমে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে দু’টি টিম তাৎক্ষণিক মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানাসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১০টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের মাঝিপাড়া জসিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে নবজাতক শিশুকে উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নাজমুল ও সামছুল হক পলাতক রয়েছে। ওই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।