দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের জেলা ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কটুক্তিমূলক বক্তব্য, কুশপুতুল দাহ এবং সদ্য ঘোষিত উপজেলা ও পৌর কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন এবং প্রতিবাদ সভা করার অভিযোগে রামগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাঁচ নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি।
অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ ও সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম ভিপি, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন মোল্লা, পৌর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন মিয়া ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন তুর্কী।
অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান।
উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখে সাবেক সংসদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহম্মেদকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান ভিপি বাহারকে সদস্য সচিব, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামানকে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন মিয়াকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ওই আহ্বায়ক কমিটিতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেয় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান ও সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু। কমিটি গঠনের কয়েকদিন পরেই উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে পৌর নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান না করে একই দিন সকাল ১১টায় রামগঞ্জ সরকারি কলেজ সড়কের পাশের পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন মিয়ার বাসভবনের সামনে সদ্য ঘোষিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটির বিরোধীতা করে তা সংশোধনের আহ্বান করে সাংবাদিক সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে দলের অন্য অংশ।
সাংবাদিক সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভায় পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভিপির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ। আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা এল রহমান, মাহমুদুল আলম মন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন তুর্কি, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু, উপজেলা বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, রফিক উল্যাহ পাটোয়ারী, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিরন, মো: লিটন এভিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুর নবী, যুবদল নেতা জামাল পাটোয়ারী, কাউছার পাঠান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন রাসেলহ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের সাথে। তিনি জানান, দলের দুর্দিনে যারা শ্রম ঘাম ও টাকা পয়সা দিয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছে। মামলা হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে দলের পদ-পদবি না দিয়ে যারা বিগত ১৫ বছরের দলের বাইরে ছিল তাদেরকে কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে আমরা আহ্বায়ক কমিটি সংশোধনের দাবি করেছি।
উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান ভিপি বাহার জানান, অব্যাহতির বিষয়টি সঠিক। জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। দীর্ঘ দিন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকেছি। দলের দুর্দিনে সব সময় পাশে ছিলাম। আগেও দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।
জেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান জানান, রামগঞ্জ উপজেলার পাঁচ নেতাকে অব্যাহতির বিষয়টি সঠিক। তারা দীর্ঘ দিন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দলের বিভিন্ন পদ-পদবিতে ছিলেন। আমরা তাদের সম্মান যেন ক্ষুন্ন না হয় তাই অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে কোনো চিঠি বা কারণ দর্শানো নোটিশ জনসম্মুক্ষে প্রকাশ করিনি।



