নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙে ঘর থেকে তৌহিদুল ইসলাম রাসেল (৩৮) নামে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের রাসূলপুর এলএসডি এলাকার তাহেরা ভেলায় এ ঘটনা ঘটে।

রাসেল ওই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের একমাত্র ছেলে।

পরিবারের দাবি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য চলছিল রাসেলের। গত শুক্রবার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে গেছেন তার স্ত্রী। সেকারণে বেশ হতাশা আর দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। দুদিন ধরে শহরের রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন তার 'ইসলাম ফটোস্ট্যাট ও স্টেশনারি' দোকানও খোলেননি।

তারা আরো বলেন, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিনি শুয়ে পড়েন। এর আগে মাকে বলেছেন রাতে খাবো না আর মাথা ব্যাথা করছে তাই ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছি। রাতে ডাকাডাকি করবে না। তাই রাতে কেউ তার খোঁজও নেয়নি। কিন্তু সকালে ১০টা পেরিয়ে গেলেও রাসেল না ওঠায় ডাকতে গিয়ে দেখা যায় দরজা ভেতর থেকে আটকানো। বারবার ডাকাডাকি সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ারুল ইসলাম মানিক ও সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হকসহ পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সাংবাদিক ও পাড়া প্রতিবেশীরাও সমবেত হন। পরে সকলের উপস্থিতিতে পুলিশ দরজা ভেঙে বিছানায় হাটুগাড়া ও গলায় প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পায়।

ধারণা করা হচ্ছে- অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর গলায় রশি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। তবে ওষুধের প্রভাবে না গলায় ফাঁসের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) সারোআর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কারো প্ররোচনায় রাসেল আত্মহত্যা করেছেন কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল তদন্ত শেষ করা হয়েছে। কারো কোনো অভেযোগ না থাকলে অপমৃত্যু মামলা হবে এবং লাশ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) গোলজার হোসেন বলেন, পরিবারের কোনো অভেযোগ না থাকায় লাশ রাসেলের মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।