রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার সৈয়দপুর পৌরসভায় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন দুদক রংপুর অফিসের সহকারী পরিচালক হোসাইন শরিফ। সাথে ছিলেন উপ-সহকারী পরিচালক সুশান্ত সাহা।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা শহরের রেলওয়ের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণকারী আলোচিত দু’জন ব্যবসায়ীর ভবনসহ তৎসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও যান। একইসাথে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংগ্রহ করেন।
এ সময় সহকারী পরিচালক হোসাইন শরিফ বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে রেলওয়ে ও পৌরসভার মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে মামলা চলমান। আদালতের নির্দেশে ইতোপূর্বে একটা সংক্ষিপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। ওই পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে। এ জন্যই আমরা আজ এলাম।
উপ-সহকারী পরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, রেলওয়ের সাথে পৌরসভার লিজ চুক্তি শর্তানুযায়ী শুধু জমি ব্যবহার করতে পারবে। কোনো অবকাঠামো পরিবর্তন, সংস্কার বা নতুন নির্মাণ করা যাবে না। অথচ সব নিয়ম ভঙ্গ করে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। এ সংখ্যা চার শতাধিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির মালিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মামলা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, এটি রেল ও পৌরসভার দ্বন্দ্বের মামলা। সেখানে আমাদের বলার কিছুই নাই। আমরা পৌরসভা থেকে বরাদ্দ নিয়ে নকশা অনুমোদন করেই ভবন করেছি। তাই এতে আমাদের কোনো ত্রুটি নাই। তবুও দুদকে কে বা কারা অভিযোগ করেছে। সে কারণে তারা এ পর্যন্ত ১০ বার তদন্ত করেছে। আবারো এসেছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বলেন, আমার আমলে কোনো ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়নি। আর আমাদের তদন্তে দুদক আসেনি। বরং বহুতল ভবন নির্মাণকারীদের মধ্যে আলতাফ হোসেন ও ঠিকাদার জয়নাল আবেদীনের বহুতল ভবন বিষয়ে তদন্তে এসেছেন। ওই ভবনগুলোও ইতোপূর্বের মেয়র নকশা অনুমোদন দিয়েছেন।



