নওগাঁর রাণীনগরে বাবু (২৮) নামের এক প্রতিবন্ধীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় তা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার উপজেলার সিলামাদার গ্রামে একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে যান বাবু। শুক্রবার সকালে সেখানে নাস্তাও করেন তিনি। কিন্তু দুপুর আড়াইটার দিকে ওই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর পাড়ে দেখা যায় জিগা গাছের সাথে ঝুলছে তার লাশ। স্থানীয়রা খবর দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে। পরে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আবাদপুকুর বাজারের ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, ‘বাবু একজন শারীরিক, বুদ্ধি ও বাক প্রতিবন্ধী। সে অধিকাংশ সময় আমার দোকানেই থাকত। সে নিজে কখনো লুঙ্গী পরতে পারত না। প্যান্ট পরলেও বেল্ট পরিয়ে দিতে হত। সেই বাবু গাছে ওঠে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করবে, কখনোই সম্ভব নয়।’

তিনি দাবি করেন, কেউ হয়তো হত্যা করে গলায় মাফলার লাগিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে।

পাম্প মালিক কাজল খন্দকার বলেন, ‘বাবুর নিহত হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সে একজন বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে কী করে আত্মহত্যা করতে পারে?’ এ সময় তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, একজন শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর পক্ষে এভাবে আত্মহত্যা করা একটু অস্বাভাবিকই মনে হয়েছে। তবে সঠিক কারণ জানার জন্য লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২০০৯ সালে উপজেলার আবাদপুকুর কুতকুতি তোলার মোড়ে পেট্রোলপাম্পের কাছে পাওয়া যায় বাবুকে। পাম্পের মালিক কাজল খন্দকার তাকে পাম্পে ঘোরাঘুরি করতে দেখে পরিবারের সন্ধান করেন। পরে সন্ধান না পাওয়ায় নিজেই তার লালন-পালনের ভার নেন। এর প্রায় চার বছর পর বাবু মরুপাড়া গ্রামের ছোলাইমান আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।