সাধারণত আমের মুকল আসের মার্চ মাসের দিকে। তবে অসময়েও আমের মুকুল দেখো যায়। অর তাতেই মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত মুকুলসহ গাছ। মৌমাছির এই গুঞ্জন জানান দিচ্ছে আগাম মুকুলের খবর।

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সহবতপুর ইউনিয়নের বৃদ্ধ আব্দুল কাদের (৬০) নিজেদের প্রয়োজনে বাড়ির পাশেই কয়েকটি দেশীয় জাতের আমের চারা লাগিয়েছেন প্রায় ১১ বছর আগে। গত পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর ফলন পেয়ে আসছেন সেই গাছগুলো থেকে। হঠাৎ করেই চলতি হলুদের মৌসুমে মৌমাছিরা তার একটি আম গাছে গুনগুন করছে। মৌমাছির গুঞ্জণে জানান দিয়েছে তার আম গাছে অসময়ে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, শখের আম চাষি উপজেলার মাইলজানি গ্রামের প্রফুল্ল চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি সনাতন ধর্মের অনুসারীর সন্তান হলেও মুসলমান হয়ে সংসার পেতেছেন একই উপজেলার চেচুয়াজানি এলাকার মুসলিম নারীকে বিবাহ করে। সংসারের আড়াই যুগে তিনি কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছেন, বিয়েও দিয়েছেন মুসলিম পরিবারে। বয়সের ভারেও চেষ্টা করেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার। চলতি বছরেই তার স্ত্রী মারা যাওয়ায় তিনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

আব্দুল কাদের খান জানান, তার বাড়িতে কয়েকটি দেশী জাতের আমের চারা রয়েছে। তারমধ্যে একটি গাছ বেশ বড় হয়েছে। গাছের বয়স ১১ বছরের মতো হবে। প্রতিবছর আমের মৌসুমে আগাম মুকুল আসে ওই গাছটিতে। গাছটি বারোমাসি আমের গাছ নয় তবুও হঠাৎ করেই এবারই প্রথম অসময়ে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে শাখা-প্রশাখা। তীব্র শীতে আমের মুকুল কেমন থাকবে বা হবে আল্লাহই ভাল জানেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনে আগাম জাত ও খাদ্য উৎপাদন বিশেষ করে সিএন রেশিও মেইনটেইন হলে আগাম আম গাছে মুকুল আসতে পারে। তবে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ওই মুকুল ফোটার আগেই ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে এবং গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। এমন ফলন টিকে গেলে চাষি বেশ লাভবান হতে পারে।