বান্দরবান-কেরানীহাট মহাসড়ক সংস্কারের পর এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি সংস্কার করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কটির কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখন চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বান্দরবানে যাতায়াত করা যাচ্ছে। সেই সাথে সড়কটি প্রশস্ত ও উঁচু হওয়ায় ঝুঁকি কমে দুর্ঘটনাও কমে এসেছে। শিগগিরই মহাসড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। নতুনভাবে সংস্কারের ফলে অনন্য নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে দৃষ্টিনন্দন এ সড়কটি দেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।
২০১৮ সালে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কটি প্রশস্ত ও উঁচুকরণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করে। আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও এর আগেই সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়। সড়কটির বাজালিয়া, বুড়ির দোকান, আমতল, দোস্তিদার হাটসহ কয়েকটি অংশ নিচু থাকার কারণে বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকত। এ সময় বান্দরবানের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেত। এ ছাড়া সড়কের যৌথ খামার অংশ থেকে বান্দরবান শহরের বাস স্টেশন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় এবং সড়ক অপ্রশস্ত হওয়ায় প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটত। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ধসের ঘটনা ছিল নিয়মিত। সড়কটি সংস্কারের ফলে এখন ২৪ ফুট প্রশস্ত হয়েছে। আগে যেখানে গড় প্রশস্ততা ছিল প্রায় ছয় ফুটের মতো। এখন অনায়াসে দু-তিনটি গাড়ি একসাথে পাশাপাশি চলাচল করতে পারবে।
প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল রিয়াসত আজীম জানান, সেনাবাহিনী সদস্যরা অকান্ত পরিশ্রম করে সড়কটির সংস্কার কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে বান্দরবানের পর্যটন শিল্পের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে। লোকজন এখন স্বাচ্ছন্দ্যে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারবেন।
প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর শাহ সাদমান রহমান জানান, ২৬৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটিতে ২১টি সেতু, ১৫টি কালভার্ট, তিনটি যাত্রী ছাউনি, ২১ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ১২১০ মিটার আরসিসি প্যালাসাইডিংসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা রোধে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কীকরণ চিহ্নসহ আয়না বসানো হয়েছে। সড়কটির সৌন্দর্য বাড়াতে নির্ধারিত কাজের চেয়েও আরো বেশি কিছু করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
বান্দরবানের শৈলশোভা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি অমল দাশ জানিয়েছেন, বান্দরবান- কেরানীহাট সড়কের দীর্ঘ দিনের যে সমস্যা ছিল তার সমাধান হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা ও পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে।
পৌর মেয়র ইসলাম বেবি জানিয়েছেন, পর্যটক ও সাধারণ লোকজন এখন স্বাচ্ছন্দ্যে বান্দরবান আসতে পারবেন। সরকারের বেশ কয়েকটি সাফল্যের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্যতম বলে তিনি জানান। এ দিকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং সড়কটির সংস্কারকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।