বছর পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিল বি-ওয়াপদা শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার নজরুল ইসলামের (৫৭)। গত বছর এ দিনে (৭ জানুয়ারি ২০২২) তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।

এ ঘটনায় নিখোঁজের স্ত্রী রুবিনা যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। (মামলার নম্বর-১৩৪, ধারা-৩৬৫/৩৪)। এর আগে ডিএমপির উত্তরখান থানায়ও তিনি সাধারণ ডায়েরি করেন। মামলাটি ইতোমধ্যে ডিবির কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে।

নিখোঁজ নজরুল বরগুনা জেলার বেতাগী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মোকসেদ আলী সিকদারের বড় ছেলে। তার দুই ভাই, দুই বোন ও দুই ছেলে রয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি ২০২২ সকালে তিনি শনির আখড়ার বাসা থেকে বের হন। রাতে আর বাসায় ফেরেননি। এ সময় কয়েকবার কল দিলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। অফিসের কেউ তার খোঁজও দিতে পারছিল না।

নজরুলের ছোট বোন জেসমিন বলেন, ‘আমাদের বাবা নেই। বড় ভাইয়ের কাছেই বাবার স্নেহ পেতাম। তিনি এক বছর ধরে নিখোঁজ। আমরা ভাই-বোনরা তার জন্য পাগলের মতো ছোটাছুটি করছি। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

নজরুলের বোন মঞ্জু বেগম বলেন, ‘তিনি যদি স্বেচ্ছায়ও আত্মগোপনে থাকেন, তবুও তাকে বের করা হোক। তাকে বের করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হোক। পুলিশ কেন ঘটনা উদঘাটন করতে পারছে না?’

নজরুলের ছোট ভাই কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না, ভাই বেঁচে আছেন না মারা গেছেন? এক বছরেও তার কোনো খোঁজ মিলছে না।'

নিখোঁজ নজরুল ইসলামের সন্ধান ও নিরাপত্তার দাবিতে মঞ্জু বেগম বলেন, ‘ভাইয়ার সন্ধান চেয়ে আমরা গত ২৭ জানুয়ারি ২০২২ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি।’

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে আমি সদ্য যোগদান করেছি। নিখোঁজ ব্যাংকার নজরুলের বিষয়টি আমার জানা নেই। কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে বেতাগী থানা পুলিশ আইনানুগভাবে এগিয়ে আসবে।’