বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ গুদিঘাটা গ্রামের আব্দুর রহিম ওরফে আলাউদ্দিন হত্যা মামলার মূল হত্যাকারী মোঃ রুবেল হাওলাদারকে (১৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার সকালে রুবেলকে বামনা থানা পুলিশ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের বিচারকের কাছে পাঠায়।
গ্রেফতার রুবেল দক্ষিণ গুদিঘাটা গ্রামের মোঃ খলিল হাওলাদারের ছেলে ও মাদারতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ জানায়, আলাউদ্দিন ও রুবেল পরস্পর বন্ধু। রুবেল তার স্বীকারোক্তিতে জানায়- আমি চট্রগ্রামের একটি মেয়েকে ভালোবাসি। তার সাথে মোবাইলে কথা বলার জন্য আমার একটি মোবাইল দরকার। আমার বাবা একজন জেলে। আমার মোবাইল কেনার সামর্থ্য না থাকায় আমি আলাউদ্দিনের হাতের মোবাইলটি পছন্দ করি এবং ওকে হত্যা করে মোবাইলটি নেবো বলে পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধু আলাউদ্দিনকে নিয়ে চলাভাঙ্গা দরবার শরীফে আসি এবং ওকে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে চা খাওয়াই। চা খাওয়ার শেষে ওকে দরবার শরীফের পেছনে ধান খেতে নিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করি। হত্যা করে আলাউদ্দিনের মোবাইল নিয়ে প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য চট্রগ্রামে চলে যাই।
জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের চলাভাংগা দরবার শরীফের পেছনের ধানক্ষেত থেকে উত্তর কাকচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহিম ওরফে আলাউদ্দিনের গলায় ফাঁস লাগনো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে নিহতের মা রোজিনা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামি করে বামনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বামনা থানা পুলিশ মূল হত্যাকারী শনাক্ত করে তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বশিরুল আলম জানান, আলাউদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইলের সূত্র ধরে হত্যাকারী রুবেলকে চট্টগ্রাম থেকে মোবাইলসহ গ্রেফতার করি। প্রাথমিকভাবে রুবেল আমাদের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। রুবেলের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।



