পারিবারিক বিরোধের জের মিটাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জাকারিয়া নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থী ৮ বিষয়ে এ-প্লাস পাওয়ার পরও তাকে ফেল করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে ওই কেন্দ্রের এক দফতরি। মফিজুল হক নামে ওই দফতরি কৌশলে জাকারিয়ার একটি বিষয়ের এমসিকিউ পেপার গায়েব করে দেন। গত সোমবার বিষয়টি ওই ছাত্র ও তার পরিবার গণমাধ্যম কর্মীদের জানালে এ নিয়ে এখন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর ঘটনার নায়ক মফিজুল এখন গা ডাকা দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা নূরীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত দফতরি মফিজুল হক জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মফিজুল টিকিকাটা নূরীয়া সিনিয়র মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও শিঙ্গা গ্রামের মৃত পনু মৃধার ছেলে।
উপজেলার বয়াতির হাট গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমানের ছেলে মো: জাকারিয়া নিজ প্রতিষ্ঠান টিকিকাটা নূরীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা কেন্দ্র থেকে-২০২২ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। গত ২৮ ডিসেম্বর মাদরাসা বোর্ডের ঘোষিত পরীক্ষার ফলাফলে ওই শিক্ষার্থী ৮ বিষয়ে এ-প্লাসসহ দুই বিষয় এ-মাইনাস পান। কিন্তু ইসলামের ইতিহাস পত্রের এমসিকিউ পত্র জমা না দেয়ায় দাখিল পরীক্ষায় ওই ছাত্র ফেল করে। পরে ২৯ ডিসেম্বর-২০২২ ওই ছাত্র পরীক্ষার ফলাফল পুনঃ যাচাইয়ের (পুনরায় নিরিক্ষণ) জন্য মাদরাসা বোর্ডে অনলাইনে আবেদন করেন। এতে দেখা যায়, ওই ছাত্রের ইসলামের ইতিহাস পত্রের সাথে এমসিকিউ পেপার বোর্ডে জমা হয়নি। ওই পত্রের পরীক্ষার সময় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ এমসিকিউর পরীক্ষাপত্রটি পরিকল্পিতভাবে দফতরি মফিজুল জমা না দিয়ে গায়েব করে ফেলেন।
জাকারিয়ার বাবা খলিলুর রহমান বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে মফিজের পরিবারের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলছে। এ জন্য আমার ছেলের পরীক্ষার খাতা গায়েব করেছে মফিজুল।
অভিযুক্ত মফিজুলের সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও: আবু জাফর জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে পরিকল্পিতভাবে ওই ছাত্রের এমসিকিউর পেপার গায়েব করার কথা স্বীকার করেছে মফিজুল। গত সোমবার দুপুরে গভর্নিং বডির জরুরি বৈঠক ডেকে মফিজুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোসলে উদ্দিন বাবুল মৃধাকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমি ভৌমিক বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।