মাদক নিয়ন্ত্রণে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ গত ১০ মাসের অভিযানে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসব অভিযানে উদ্ধার করা মাদকের মূল্য সরকারিভাবে ৬২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা দেখানো হলেও স্থানীয়রা বলছে, এর মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
ফুলবাড়ী থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে ৪৪৯ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, এক হাজার ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল, চার হাজার ৬০২ পিস ইয়াবা, ৫৯১ বোতল ইস্কাফ ও ছয় বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২৩ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৮৭ বোতল ফেনসিডিল, ২৭০ বোতল ইস্কাফ, ২২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।
এ সময়ে ১০২টি মাদক মামলায় ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে আরো ৩৭ জন।
সূত্র আরো জানায়, মাদক প্রতিরোধে সচেতনতার জন্য গত ডিসেম্বর মাসে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন এলাকায় ৭০৬টি উঠান বৈঠক করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর, উত্তর অনন্তপুর, কাশিয়াবাড়ী, বেড়াকুটি, ধর্মপুর, বালাবাড়ী, কাশেম বাজার, কাশিপুর কলেজ মোড়, গংগাহাট সেতুর মোড়, ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ বাজার, চোত্তাবাড়ী মোড়, নাখারজান, চাঁদের বাজার, ঠোস বিদ্যাবাগিস, কুটি চন্দ্রখানা, ব্র্যাক মোড়, পানিমাছকুটি মডেল স্কুল এলাকা, কদমতলা, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের জুম্মার পাড়, নন্দিরকুটি, লালের বাজার, ঠাকুরপাঠ, টেপরি বাজার, মিয়াপাড়া সিএমইএস, হক বাজার, বোর্ডের হাট, রোশন শিমুলবাড়ী, শালবাড়ী হ্যাচারি মোড়, আছিয়ার বাজার, শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর পশ্চিম পাড়, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট, কুরুষা-ফেরুষা, জায়গীরটারী, খলিশাকোটাল, গজেরকুটি, বাদশা বাজার, বালাতাড়ি, কৃষ্ণানন্দ বকসী, গোরক মণ্ডল বিডিআর বাজার, গোরক মণ্ডল নামাটারী, গোরক মণ্ডল সেতুর পাড়, চর-গোরক মণ্ডল, আনন্দ বাজার, চর গোরক মণ্ডল আবাসন, পশ্চিম ফুলমতি স্কুলের পাড়, নাওডাঙ্গা বকুলতলা বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয় বলে জানায় স্থানীয়রা।
বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা এসব এলাকায় এসে সেবন করছে ও কিনছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, যুবক, তরুণ এমনকি নারী-বৃদ্ধরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসা ও সেবনে।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী জানান, ফুলবাড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মাদক কেনাবেচা হয় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে। এ কারণে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে একটা পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা জরুরি। পুলিশ ইউনিয়নে নিয়মিত টহল দিলে মাদকসেবীদের আনাগোনা কমবে।
কাশিপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জানান, শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে মাদক প্রতিরোধ অসম্ভব। মাদক প্রতিরোধে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু মাদককারবারীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারছে না।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলুর রহমান জানান, ‘প্রতিদিনই আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান চলছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব না। সমাজের সচেতন মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা যদি পুলিশকে সহযোগিতা করে, তবেই মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ করা সম্ভব।’



