সিলেটের ওসমানীনগরের ওসমানপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডসদস্য আশিকুর রহমান তার ফেসবুক ওয়ালে হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধন করতে বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ভোটারদের ছবি সংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তালিকা আপলোড করায় নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ওয়ার্ডবাসী। বিষয়টি নিয়ে তার কমেন্ট বক্সে ওয়ার্ডের লোকজন তীব্র প্রতিবাদ করার পরও তিনি তা না মুছে উল্টো যুক্তি খণ্ডন করছেন।
জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু লায়েশ দুলাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বেঁধে দেয়া হয়। গত রোববার ইউপি সদস্য আশিকুর রহমান তার ‘আশিক মেম্বার’ নামক স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের ছবিযুক্ত প্রোফাইলধারী ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিসহ ওয়ার্ডের নারী-পুরুষদের ১৬ পৃষ্ঠার খসড়া হালনাগাদ ভোটার তালিকা আপলোড করেন। ইউপি সদস্যের ব্যক্তিগত আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা আপলোড করায় নাগরিকদের এসব আইডি নাম্বার দুষ্কৃতকারীরা অপব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন ওয়ার্ডের লোকজন। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম ঠিকানা সংশোধনের কথা লিখে উল্টো তিনি এসব প্রতিবাদ খণ্ডন করেন। এতে স্থানীয় ওয়ার্ডের লোকজন ইউপি সদস্যকে কমেন্ট বক্সে ফাউল লিখে প্রতিবাদ করেন।


ইউপি সদস্যের ফেসবুক কমেন্টে শামিম হক নামে একজন লিখেন, শুধু তথ্য দিলেই হতো, ব্যক্তিগত আইডি শেয়ার করা সঠিক হয়নি। ইব্রাহিম খান ইমন লিখেন, এনআডি কার্ড হলো মানুষের পরসোনাল, এই কার্ড ফেসবুকে দেয়া ঠিক নয়। হুমায়ুন কবির সামাদ লিখেন, ব্যক্তিগত আইডি কার্ড এভাবে পাবলিক প্লেসে দেয়া ঠিক হয়নি।
ইউপি সদস্য আশিকুর রহমান বলেন, আমার ধারে কাছে যারা নেই অর্থাৎ যারা বিদেশে আছেন তাদের দেখার জন্য এটা ফেসবুকে দিয়েছি। এতে সমস্যার কি আছে?
ওসমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ালী উল্লাহ বদরুল বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা পাবলিক প্লেসে দেয়া ঠিক হয়নি। আমি সকালে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ডিলিট করার কথা বলেছি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু লায়েশ দুলাল বলেন, আমরা ভুলত্রুটি দেখার জন্য চেয়ারম্যান বরাবরে তালিকা পাঠিয়েছি। ফেসবুকে দেয়ার জন্য নয়।