সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মহিলা হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্রী আট বছরের শিশু মরিয়ম অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর উপজেলার জালালপুর জেঠুুয়া কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া এতিমখানায় শিশুটি রান্না করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়। তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং এরপর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে গত ১৫ জানুয়ারি মরিয়মকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সে এখন ওই বার্ন ইউনিটের চারতলায় শিশু ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গত ২৫ জানুয়ারি বুধবার সকালে তার গলায় অপারেশন হয়েছে। সুস্থ হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শিশু মরিয়ম খুলনার পাইকগাছা থানার দরগামহল গ্রামের শেখ লিটনের মেয়ে। তবে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে লিটন এখন নিরুদ্দেশ। যোগাযোগ নেই পরিবারের কারোর সাথে। স্ত্রী মমতাজ বেগম এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে সরকারি গুচ্ছগ্রামে। অভাবের তাড়নায় মেয়েকে এতিমখানায় দেন অসহায় মা। সেই এতিমখানাতেই রান্না করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয় আট বছরের শিশুটি। এখন চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ভার বহন করতে পারছেন না মা।
মরিয়মের মামা শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধপত্র দিচ্ছে। বাইরে থেকে দৈনিক অ্যালবোটিন নামের একটি ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে, তার দাম ৩৫০০ টাকা। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক আরো ওষুধও কিনতে হচ্ছে। মা মমতাজ বেগম জানান, দিনমজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করি। মানুষের সহায়তা নিয়ে মরিয়মের চিকিৎসা করছি।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিটু বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়, গরিব। সবার সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলছে। আমি নিজেও সহায়তা করেছি। মরিয়মের চিকিৎসার জন্য কেউ সহায়তা করতে চাইলে ০১৯৪২১৫৮৬৬৯ (শিশুটির মা মমতাজ বেগম) নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।