সিলেটে ভিএফএস গ্লোবাল শাখার গার্ড ও কর্মচারীদের অসদাচরণে অসহায় হয়ে পড়ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণ। ভিএফএসের গার্ডরা কাউকে তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছেমাফিক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন দেশের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা ও পাসপোর্ট গ্রহণ করতে আসা সেবাগ্রহীতরা। এখানে সেবা নিতে আসা আগতরা অভিযোগ করবেন, সেই সুযোগও দেয়া হয় না কাউকে। অফিসের গার্ড ও কর্মচারীরা পাসপোর্ট জমাদান ও গ্রহণ করতে আসা সেবাগ্রহণকারীদের সাথে অহেতুক অসদাচরণ করেন। দফতরের ঊর্ধ্বতন কারো সাথে দেখা করার সুযোগ তো দেয়া হয়-ই না, উল্টো দফতরের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতনরা কেউ-ই প্রকাশ্যে না এসে সিকিউরিটি গার্ডদের মাধ্যমে দেখা না করার বার্তা পাঠিয়ে দেন। ফলে সুযোগ বুঝে গার্ড ও কর্মচারীদের অসদাচরণ ও অকথ্য ভাষা নীরবে সহ্য করতে হয় সেবা নিতে আসা আগতদেরকে ।
এ দফতরে ভিআইপি থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণকেও আসতে হয়। সিলেট অঞ্চলটি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন দেশের ভিসার আবেদন জমা দেয়ার জন্য ওই দফতরে শত শত নারী-পুরুষসহ শিক্ষার্থীদেরকে আসতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই দফতরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ, ভাবভঙ্গিতে সভ্যতার লেশমাত্র নেই। সিলেটে ভিএফএস গ্লোবাল শাখার কর্মরতদের এহেন অসদাচরণ চলতে থাকলে আগত ভিসা আবেদনকারীরা কোনো একসময় ফুঁসে উঠতে পারে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা তোজাম্মেল হক তাজুলসহ ভুক্তভোগী অনেকেই।
সিলেট শহরের মির্জা জাঙ্গাল এলাকায় ‘নির্ভান ইন’ নামে একটি ভবনের সপ্তম তলায় এই ভিএফএস গ্লোবাল শাখার কার্যালয়। ওই শাখা থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা ও থাইল্যান্ডের ট্যুরিস্ট কিংবা স্টুডেন্ট ভিসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন জমা নেয়া, সংশ্লিষ্ট দেশের হাইকমিশন কার্যালয়ে সেগুলো জমা দেয়া ও পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার কাজ করার দায়িত্বই হচ্ছে এই ভিএফএস গ্লোবাল নামক প্রতিষ্ঠানের। বিনিময়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ভিসা ফি’র সাথে সেবাচার্জও নেয়া হয়। এক কথায় ভিসা আবেদনকারীদের টাকায় দফতরটি পরিচালিত হয়।
দেশের প্রতিটি দফতরেই অভিযোগ দেয়ার মতো জায়গা থাকলেও ওই দফতরে সেবা নিতে আসা কারো পক্ষে অভিযোগ দেয়ার সুযোগ নেই। সেবা নিতে এসে অসহায় আগতদেরকে নীরবে তাদের এসব অসভ্যতা ও অসদাচরণ সহ্য করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভিএফএস গ্লোবাল সিলেট শাখার মনসুর আহমেদ নামে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে কিংবা দেখা করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতেও অপারগতা প্রকাশ করেন।



