গাজীপুরের কালীগঞ্জ অঞ্চল দিয়ে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ওপর আড়াআড়িভাবে রয়েছে বেশ কয়েকটি সড়ক পথ। এসব সড়কপথের স্থানে স্থানে রয়েছে বেশ কয়েকটি অরক্ষিত রেলক্রসিং। এই ক্রসিংগুলো যেন এক একটি মরণফাঁদ। সময়ে অসময়ে এখানে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে প্রাণহানী হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছে অনেকেই।
প্রতিদিন এই রেলপথে গড়ে ৫০টির বেশি ট্রেন যাতায়াত করে। কালীগঞ্জ উপজেলা সীমানায় রেলপথের জন্য দু’টি সুরক্ষিত ও আটটি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। এগুলো হলো- পূবাইল ব্রিজ সংলগ্ন (শিমুলিয়া), নলছাটা, দড়িপাড়া, বান্দাখোলা (কামারবাড়ী), তুমলিয়ার কাপাসিয়া মোড় সংলগ্ন (সাদ্দাম মার্কেট), খঞ্জনা (বড়নগর রোড), বালীগাঁও (মোড়ল মার্কেট), বালীগাঁও (চৌধুরী বাড়ি), বাঘারপাড়া ও চৈতারপাড়া (মূলগাও মাদরাসা সংলগ্ন) রেলক্রসিং। এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে শিমুলিয়া ও দড়িপাড়া এলাকার দু’টি রেলক্রসিংয়ে অনুমোদিত গেটম্যান ও গেটবার থাকলেও বাকি আটটিতে নেই। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে দড়িপাড়া রেলক্রসিংয়ে সিলেটগামী সুরমা মেইল ট্রেনের সাথে একটি কোম্পানির গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে ঢাকা-ভৈরব রেল যোগাযোগ প্রায় ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে রেল চলাচল স্বাভাবিক করে। স্থানীয়রা বলেন, কিছু দিন পরপরই এই অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। অরক্ষিত এই রেলক্রসিংগুলোতে দ্রুত গেটম্যান নিয়োগ ও গেটবার স্থাপনের দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে আড়িখোলা স্টেশন মাস্টার দিলীপ চন্দ্র দাসকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে সহকারী স্টেশন মাস্টার এস এম কামরুল ইসলাম জানান, কালীগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানে। আবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বাংলাদেশ রেলেওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) শহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে এই বলেন, পূবাইল ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ও দড়িপাড়া ছাড়া বাকিগুলোতে গেটম্যান বা গেটবার দেয়ার পরিকল্পনা আপাতত রেলওয়ের নেই।