ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ছাড়াই প্রায় সাত লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগে ইউএনওসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান। মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিনিয়র ¯েপশাল জজ আদালতের বিচারক নাজিম উদ দৌলা।
আসামিরা হলেন কলেজের প্রধান হিসাবরক্ষক রজব আলী, সহকারী অধ্যাপক মনোজ কান্তি বিশ্বাস, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম আহসানুল কবীর, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেম উদ্দিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতার হোসেন ও ব্যাংকটির খুলনা বিভাগীয় জোনাল হেড সাইদুর রহমান।
মামলার বিবরণে বাদি উল্লেখ করেন, কলেজের অভ্যন্তরীণ আনুষঙ্গিক ব্যয় ও অবকাঠামোগত সংস্কার ব্যয় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাব নম্বর ৫৮৫৮ ও ৬১২৭ থেকে নির্বাহ করা হয়। হিসাব নম্বর দুটির অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মামলার বাদি অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান ও ইউএনও ইসরাত জাহান।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট কলেজটি সরকারি হওয়ার পর মাউশি অধিদফতরের মহাপরিচালকের পত্রাদেশ ছাড়া যারা পার¯পরিক যোগসাজশে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৫৮৫৮ ও ৬১২৭ হিসাব নম্বর থেকে টাকা তুলেছেন তার আদ্যোপান্ত তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহানের সরকারি মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন টুলু জানান, সোমবার দুপুরে ¯েপশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত ঝিনাইদহে মামলাটি করেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান একটি মেসেজ পান যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ২১ টাকা উত্তোলন হয়েছে। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএমের সাথে তিনি বিষয়টি আলাপ করেন। জিএম ঝামেলা এড়াতে শিগগিরই মামলা করার পরামর্শ দেন।