নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি বসতবাড়ি। এ সময় অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শাফিন প্রামাণিক নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (৫ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার পাকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাফিন ওই গ্রামের আফছার আলীর ছেলে।

নিহত শাপিনের বড় ভাই সেকেন্দার আলী (৬৬) জানান, রাতে হঠাৎ আমাদের ঘরে আগুন লেগে যায়। টের পেয়ে আমরা চিৎকার শুরু করি। এ সময় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রাণীনগর ছুটে আসেন। তারা নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নওগাঁ ও আদমদীঘির ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে তিনটি ইউনিট দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের সাত ভাইয়ের সাতটি মাটির দোতলা বাড়ি, ঘরের আসবাবপত্র, ধান, চাল ও সরিষাসহ সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে শাপিনের লাশ উদ্ধার করেন। এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রাণীনগর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার জিয়াউল হক বলেন, আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নওগাঁ ও আদমদীঘি থেকে আরো দু’টি ইউনিটের সহযোগিতা নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ সময় শাপিন নামের একজনের লাশ উদ্ধার করি। তিনি অতিরিক্ত ধোঁয়ায় মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন এ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, আগুনে সাতটি বাড়ির মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কিছু নগদ অর্থ, বস্ত্র, চাল-ডাল সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি নির্মাণ ও পূর্ণ আবাসনে সার্বিক সহায়তা করা হবে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহত শাপিনের স্ত্রী মরিয়ম নেছা পপি থানায় একটি ইউডি মামলা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।