মানিকগঞ্জের সিংগাইর-মানিকনগর সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কারকাজে ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী ও যাত্রী সাধারণ। প্রায় চার বছর আগে এই সংস্কারকাজ শুরু হলেও আজো তা শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগের শেষ হচ্ছে না।
জানা গেছে, ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ হাতে নেয় উপজেলা প্রকৌশল অফিস। প্রথমে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পেয়ে ভেকু দিয়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করে। এরপর আর কোনো কাজ না করায় দুই বছর অতিবাহিত হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুনঃদরপত্রে ঢাকাস্থ এমবিইএল ও সোনার বাংলা নেভিগেশন কাজ পায়। প্রায় ৪ মাস আগে প্রতিষ্ঠানটি সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করে। কিন্তু কাজের ধীরগতি এবং নিয়মিত পানি দিয়ে কিউরিং না করায় ধুলা-বালিতে পুড়ো এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন আলীনগর গ্রামের সেলুন দোকানদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখি শরীরে ধূলার আবরণ পড়ে গেছে। শায়েস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর আলী বেপারী বলেন, সড়কের পাশে বাড়ি হওয়ায় রান্না করা ভাত তরকারিতে প্রতিনিয়ত ধুলা-বালু পড়ছে। আর সেগুলো আমাদের খেতে হচ্ছে।
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি টুটুন দাস বলেন, প্রতিদিন মোটরসাইকেলযোগে একাধিকবার এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাস্ক পড়লেও রেহাই নেই, নিঃশ^াসের সাথে ফুসফুসে যাচ্ছে ধুলা-বালু। সিএনজি চালক রাসেল বলেন, ভাঙা এ সড়কে আর গাড়ি চালাতে ইচ্ছে করে না। ঠিকাদার যেভাবে কাজ করছে তাতে কত বছর যে লাগবে কেউ বলতে পারে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ফরহাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন ধুলা-বালুতে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। বর্তমানে কাজের গতি সন্তোষজনক। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার বলেন, ধুলা-বালুর কারণে বাড়িতে বসবাস করা দায় হয়ে পড়ছে।