কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সংঘর্ষে মেয়ের বাবাসহ ১০ জন আহত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইটারী বসুনিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কিছু দিন ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে ওই গ্রামের অকিল চন্দ্র সরকারের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে একই গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে রনি আহম্মেদ (২০) প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করত। গতকাল শনিবার বিকেলে মেয়েটি প্রাইভেট পড়ার জন্য রনি বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রনি তাকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটি কৌশলে সেখান থেকে বাড়িতে এসে বাবা অকিল চন্দ্রকে সমস্ত ঘটনা জানান। ঘটনা শুনে মেয়েটির বাবা ও ভাই শুভশীষ সরকার রনির বাড়ির সামনে গিয়ে মেয়েটিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে তর্ক-বির্তকের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অকিল চন্দ্র সরকার (৪৬), মুকুল চন্দ্র সরকার (৩৯), সুভাশীষ চন্দ্র সরকার (২৫), সুনীল চন্দ্র সরকার (৫১) ও সতীর্থ কর্মকার (২৫) রনি আহমেদ (২০), হাছেন আলী (৪৮), শমসের আলী (৫২), হুমায়ুন আহমেদ (২৩) ও জনি আলম (২০) আহত হন।
খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রনি ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শনিবার রাতেই আমি থানায় মামলা করেছি। এখন পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এ প্রসঙ্গে রনি আহম্মেদ ওই ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি আমার ছোট বোনের বান্ধবী। তাই ছোট বোন হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির দিন তাকে ফুল উপহার দিয়েছি। কিন্তু তার পরিবারের লোকজন কোনো কিছু যাছাই-বাচাই না করেই আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে শনিবার মেয়ের বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ও পেনালকোডে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।



